বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ কাতার এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে গ্যাস আমদানির জন্য আলোচনা শুরু করেছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কাতারের নিজস্ব সরবরাহ সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে দেশটি এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, কাতারএনার্জি বর্তমানে চালু থাকা এবং নির্মাণাধীন মার্কিন রপ্তানি প্রকল্পগুলো থেকে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সংগ্রহের বিষয়ে গোপনীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে কাতার বিশ্বব্যাপী মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের যোগান দিত। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গ্যাস ট্যাংকার চলাচলের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তাদের রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে, রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্রটি সংঘাতের প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদন দ্বিগুণ করার যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা দেশটির ছিল, তা এখন অনিশ্চিত। স্থাপনাটি পুরোপুরি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের আশঙ্কায় কাতার এখন জ্বালানি বাণিজ্যের নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, চলমান এই যুদ্ধ ২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কাতারএনার্জি প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নিজস্ব সরবরাহ বাড়াতে বিকল্প উৎস খুঁজছে। যদিও এ বিষয়ে কাতারএনার্জির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের ট্রেডিং ইউনিটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে চলেছে।
উল্লেখ্য যে, কাতারের হাতে আগে থেকেই মার্কিন বাজারে কিছু বিনিয়োগ রয়েছে। টেক্সাসে অবস্থিত গোল্ডেন পাস এলএনজি কারখানার অন্যতম মালিকানা কাতারের হাতেই রয়েছে। গত এপ্রিল মাস থেকে কারখানাটি রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ক্রমাগত উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট এই সংকট কাতারকে তার গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে মার্কিন জ্বালানি খাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে।