Skip to main content

Brick Lane News

গণতন্ত্র নাকী উগ্রবাদ? সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ

গণতন্ত্র নাকী উগ্রবাদ? সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার কলাম-

IMG 0826 গণতন্ত্র নাকী উগ্রবাদ? সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ
ফাইল ফটো

শেখ হাসিনা –

বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ ও মধ্যপন্থী মুসলিম দেশ। কিন্তু আজ দেশটি ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মাত্র ১৫ বছরের মধ্যে প্রায় শূন্য থেকে উঠে বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকার মাত্র এক বছরের মধ্যেই সেই অর্জনগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, নিহত জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ৩০ লাখ শহীদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলদারিত্ব থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার সংগ্রামে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের প্রতিও জানাই আন্তরিক সম্মান।

বাংলাদেশ বিপুল রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করলেও স্বাধীনতার পর দেশের গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নের পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। বরং সেই পথ ছিল অত্যন্ত কঠিন, কণ্টকাকীর্ণ ও বিপদসংকুল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমি আমার পুরো পরিবারকে হারিয়েছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার মা, তিন ভাই এবং আমার দুই ভাইয়ের স্ত্রীসহ পরিবারের মোট ১৮ জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমি ও আমার বোন তখন জার্মানিতে অবস্থান করায় এই হত্যাকাণ্ড থেকে বেঁচে যাই।

১৯৭৫ সালের পর আমরা দুই বোন ছয় বছর নির্বাসনে ছিলাম। ১৯৮১ সালে যখন আমি দেশে ফিরে আসি, তখন আমার পরিবারের সব হত্যাকারীই দেশে উপস্থিত ছিল এবং তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তাদের বিচারের দাবি তোলারও কোনো অধিকার আমাদের ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা যুদ্ধাপরাধ করেছিল, তাদেরও কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতেই ১৯৮১ সালে আমি দেশে ফিরে আসি মানুষের সেবা করার জন্য। আমার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করেছিল। আমি কখনোই এই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু দল ও দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল সেটিই। আমার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। তাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা আমার কাছে ছিল একটি দায়িত্ব।

দীর্ঘ সময় ধরে দেশ সামরিক স্বৈরশাসকদের হাতে পরিচালিত হয়েছে। ক্ষমতার পরিবর্তন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়নি, বরং হয়েছে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। সেটিই ছিল তখনকার বাস্তবতা।

আমাদের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আঞ্চলিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। এটিই ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নও। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে এমন একটি দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে, যেখানে দেশের মানুষ ভালোভাবে বাঁচতে পারে।

আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, গণতন্ত্র এবং সব নাগরিকের সমান অধিকারে বিশ্বাস করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছিলেন সব মানুষের আবাসভূমি হিসেবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্যই বাংলাদেশ।

দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো হয় এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতেও নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ। মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের জন্য বাস্তব পরিবর্তন আনা।

২০০১ সালে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট এবং সাক্ষরতার হার বেড়ে হয়েছিল ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যান্য আর্থসামাজিক সূচকেও ব্যাপক উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসতে পারেনি।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময়ে বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস ধর্মীয় উগ্রবাদের উর্বর ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। হরকাতুল জিহাদ, জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ এবং অন্যান্য উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক দেশে নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের সুযোগ, আশ্রয় ও সাহস পেয়েছিল। এটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত।

আট বছর পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসে এবং ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে। সন্ত্রাসবাদ দমনকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করা হয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন, অর্থপাচার, জঙ্গি নিয়োগ এবং উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হয়।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিট, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলা হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হয়।

ধর্মীয় আলেম, শিক্ষক, পরিবার, তরুণ সমাজ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কাজ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি তৈরি হয়েছিল যে শুধু শক্তি প্রয়োগ করে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, ধর্মের অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে সঠিক বক্তব্য, অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, সাইবার নজরদারি এবং সমাজের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ একটি ভয়াবহ ও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করে। কোটা সংস্কারের দাবিকে সামনে রেখে একটি সুপরিকল্পিত আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই আন্দোলনে সহিংস উগ্রপন্থীদের সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং তারাই এর অন্যতম সংগঠক ও সুবিধাভোগী ছিল।

দাঙ্গাকারীরা ৪৬০টি পুলিশ স্টেশনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। পুলিশ সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, এমনকি সেতু ও উড়ালসেতু থেকে তাদের ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

কারাগারেও হামলা চালানো হয়। সাজাপ্রাপ্ত ও অভিযুক্ত জঙ্গিরা পালিয়ে যায় অথবা জামিনে মুক্তি পায়। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হিজবুত তাহরীর, হরকাতুল জিহাদ এবং জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের মতো নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতাদেরও কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, আহমদিয়া ও সুফি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মাজার-দরগাহ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু ধর্মীয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, মানুষও এই হামলা থেকে রেহাই পায়নি। এটি ছিল বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর সরাসরি আঘাত।

উগ্রপন্থী নেতারা আবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেন। তাদের কৌশল ছিল নির্মম: মৃতদেহ সৃষ্টি করো, মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করো, আর সরকারকে পতনের দিকে ঠেলে দাও। ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তারেক রহমান এবং জামায়াত এই লক্ষ্যেই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। এটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন ছিল না, বরং একটি সুপরিকল্পিত অভিযান ছিল।

১৮ জুলাই প্রতিটি মৃত্যু, প্রতিটি গুলি এবং প্রতিটি সহিংসতা ও অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা তদন্ত করতে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। ড. ইউনূস ও তার সরকার যদি সত্যিই ন্যায়বিচার চাইত, তাহলে সেই তদন্ত কেন স্থগিত করা হলো? কেন তারা একটি স্বাধীন তদন্তকে ভয় পেল?

যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল, তাদেরই অন্তর্বর্তী সরকার সুরক্ষা দিয়েছে। তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই দায়মুক্তিই অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয়। তারা যদি কোনো অপরাধ না করত, তাহলে তাদের দায়মুক্তি দেওয়ার প্রয়োজনই বা কেন হতো? অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়ার এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে প্রকৃত হত্যাকারীরা কারা ছিল।

তারেক রহমান তার পূর্বসূরির শুরু করা পথই অব্যাহত রেখেছেন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করছেন।

২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, তাকে হাতকড়া পরিয়ে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতির ওপর দা, চীনা কুড়াল, লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে এবং তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

যে দেশে আইনজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং নির্যাতন করা হয়েছে, সেখানে একটি ভয়াবহ আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নারী ও শিশুরাও ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে যে দেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে গিয়েছিল, ২০২১ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছিল। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছিল। দারিদ্র্যের হার কমে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছিল এবং চরম দারিদ্র্যের হার কমে হয়েছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

মানুষ বাস্তব অর্থেই তুলনামূলক শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির মধ্যে বসবাস করছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গত দুই বছরে দেশটির অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে এবং উন্নয়নের বহু অর্জন ধ্বংস হয়ে গেছে। দারিদ্র্য বাড়ছে। এখন মানুষের জীবনও নিরাপদ নয়। ঘরে কিংবা রাস্তায় কোথাও মানুষ নিজেকে নিরাপদ মনে করছে না।

অথচ যারা ক্ষমতায় আছে, তারা ক্ষমতা ভোগ করছে, অর্থ উপার্জন করছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এমনকি টিকা না পাওয়ার কারণে শত শত শিশুর মৃত্যুও ঘটেছে।

বার্তাটি খুবই পরিষ্কার। উগ্রবাদ, সহিংসতা কিংবা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তি ধ্বংস করে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করতে হবে গণতন্ত্র, সাংবিধানিক শাসন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার ভিত্তিতে।

একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া এবং পুরো বিশ্বের জন্যই মঙ্গলজনক। একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

(লেখাটি  Newdelhipost থেকে অনুবাদ করা )