ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে আয়োজিত কাতার ইকোনমিক ফোরামের উদ্বোধনী পর্বে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানো এবং উত্তেজনার চক্র বন্ধ করার আহ্বান জানান। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
নতুন নিরাপত্তা কাঠামো ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা
শেখ মোহাম্মদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন যেখানে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা হবে এবং কোনো দেশ অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে না। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি একটি ‘ভূমিকম্পের’ মতো, যার ‘কম্পন’ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর ফলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘সংকটের সময় প্রায় প্রতিটি আলোচনা নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমনের বিষয় দিয়ে শুরু হয়। এরপর জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনার দিকে আলোচনা মোড় নেয়। যখন এতকিছু ব্যাহত হয়, তখন কোন বিষয়টির ওপর নির্ভর করা যায়?’
কাতারের অবস্থান ও উত্তেজনার উৎস মোকাবিলা
- কাতারের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ‘ভিত্তি’ এই সংকটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেলেও দেশটি তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
- তবে তিনি স্বীকার করেন, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব কাতারের ওপরও পড়ছে।
- শেখ মোহাম্মদ দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘এমন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, যেখানে কোনো একটি দেশকে ক্রমাগত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখা হয়। আমাদের উত্তেজনার মূল উৎসগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবিলা করতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হবে।’
নিউইয়র্ক থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ক্রিস্টেন সালুমি জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের বৈঠকে কাতারের এই বার্তা আবারও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।