Skip to main content

Brick Lane News

জলবায়ু মামলা: জ্বালানি কোম্পানির দায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি

জলবায়ু মামলা: জ্বালানি কোম্পানির দায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতির দায়ভার তেল ও জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর বর্তায় কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বোল্ডার শহর ও কাউন্টির দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার এই শুনানি হয়। তবে মামলার মূল বিষয়বস্তু তেল কোম্পানিগুলোর দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়, বরং এই ধরনের মামলা অঙ্গরাজ্যের আদালতে পরিচালনার আইনি সক্ষমতা আছে কি না, তা যাচাই করাই আদালতের প্রাথমিক উদ্দেশ্য। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসও জানতে চান, বোল্ডার জয়ী হলে দেশের অন্যান্য পৌরসভাও একই ধরনের মামলা করলে পরিস্থিতি কী হবে। অন্যদিকে বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে আসার সময় হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি সেপ্টেম্বর মাসে মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ান।

বোল্ডার কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালে জ্বালানি খাতের জায়ান্ট এক্সনমোবিল ও কানাডাভিত্তিক সানকর এনার্জির বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াই শুরু করে। তাদের অভিযোগ, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পরিবেশগত ঝুঁকি সম্পর্কে কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে চরম আবহাওয়া, দাবানল, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তার আর্থিক দায় কোম্পানিগুলোকেই বহন করতে হবে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। পাল্টা যুক্তিতে কোম্পানিগুলো দাবি করেছে, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং এটি ফেডারেল সরকারের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়; তাই অঙ্গরাজ্যের আদালতে এর বিচার করা সম্ভব নয়। শহর ও কাউন্টি কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব ক্ষতির আর্থিক বোঝা ক্রমেই স্থানীয় সরকার ও সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। তাদের দাবি, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও জলবায়ু পরিবর্তন এমন একটি বিষয়, যার প্রভাব অঙ্গরাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। কোম্পানিগুলো এ মামলাকে পরিবেশবাদীদের একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখিয়েছে।

শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। রক্ষণশীল বিচারপতিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বোল্ডারের মামলা অঙ্গরাজ্যের আদালতে চলার অনুমতি দিলে ভবিষ্যতে দেশজুড়ে এ ধরনের অসংখ্য মামলা দায়ের হতে পারে। অন্যদিকে উদারপন্থী বিচারপতিরা বিষয়টিকে তামাক বা ওপিওয়েড কোম্পানির বিরুদ্ধে অতীতের মামলাগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে একজন বিচারপতি—স্যামুয়েল আলিটোর অনুপস্থিতি আদালতকে ৪-৪ সমতার দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা বোল্ডারের পক্ষের রায়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে আদালতের কয়েকজন উদারপন্থী বিচারপতি বোল্ডারের যুক্তির প্রতি তুলনামূলকভাবে সহানুভূতিশীল অবস্থান দেখিয়েছেন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে প্রায় ৬০টি মামলা ঝুলে আছে। যদি সুপ্রিম কোর্ট বোল্ডারের এই মামলাটিকে অঙ্গরাজ্যের আদালতে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়, তবে অন্য স্থানীয় সরকারগুলোর জন্যও বড় জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথ প্রশস্ত হবে। আবার আদালত যদি এটি নাকচ করে দেয়, তাহলে অন্যান্য সকল মামলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

বিচারিক প্রক্রিয়াটি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় আগামী ২০২৭ সালের জুন কিংবা জুলাই মাসের দিকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই রায়ের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় সরকারগুলোর পক্ষে বৃহৎ জ্বালানি সংস্থাগুলোকে জলবায়ু বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করার আইনি সক্ষমতা।