ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ভারতের কৃষকসমাজ। ২০২১ সালে বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারে সরকারকে বাধ্য করা কৃষকনেতা ও সংগঠনগুলো এবার এই চুক্তির বিরোধিতায় ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সাধারণ ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে।
সংযুক্ত কিষান মোর্চা (এসকেএম), অল ইন্ডিয়া কিষান সভা, ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন ও ক্রান্তিকারী কিষান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজ্যের কৃষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ে ভারত সরকার দেশের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েছে। তারা দাবি করেছে, এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানির কাছে ভারতের কৃষিখাত কার্যত বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
কৃষক সংগঠনগুলো কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের পদত্যাগ দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সরকার ও বাণিজ্যমন্ত্রী দেশবাসীকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ভুল বোঝাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ঘোষণার পর বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল দাবি করেন, এই চুক্তিতে ভারতের কৃষি ও দুগ্ধজাত খাত সুরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং এসব খাত চুক্তির আওতার বাইরে রয়েছে। তবে এসকেএম এক বিবৃতিতে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য মিথ্যা ও দেশদ্রোহের শামিল। তারা তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে।
এসকেএম জানিয়েছে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিবৃতিতে মার্কিন কৃষিজাত ও খাদ্যপণ্যের ওপর থাকা নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার আলোচনার মাধ্যমে তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা প্রমাণ করে কৃষিপণ্য আমদানির জন্য ভারত বাজার খুলতে রাজি হয়েছে।
এসকেএম (অরাজনৈতিক) সংগঠনের নেতা জগজিৎ সিং ডাল্লেওয়াল বলেন, “সরকার বলছে কৃষি ও দুগ্ধখাত সুরক্ষিত, কিন্তু যৌথ বিবৃতি বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। এই আত্মসমর্পণের মূল্য দিতে হবে দেশের কৃষকদের।”
অল ইন্ডিয়া কিষান সভার নেতা কৃষ্ণ প্রসাদ বলেন, লাল জোয়ার, সয়াবিন তেল ও পশুখাদ্য আমদানির অনুমতি দিলে কৃষির পাশাপাশি দুগ্ধখাতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকায়েত ও ক্রান্তিকারী কিষান ইউনিয়নের নেতা দর্শন পাল জানান, চুক্তি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘট সফল করার পাশাপাশি তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুতুল দাহ করবে।
কৃষক সংগঠনগুলো জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ফলচাষিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, আপেল, আনারাস, নারকেল ও ড্রাই ফ্রুটসের অবাধ আমদানি এসব অঞ্চলের কৃষকদের পথে বসাবে।
কাশ্মীর ভ্যালি ফ্রুট গ্রোয়ার্স কাম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বশির আহমেদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে দাবিপত্র দিয়ে জানান, উপত্যকার প্রায় সাত লাখ পরিবার আপেল চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের জন্য শুল্কহীন বাজার উন্মুক্ত হলে তাদের জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, “ভারতীয় আপেল বিদেশে বাজার পায়নি, কিন্তু বিদেশি আপেল দেশে আধিপত্য বিস্তার করছে। অবাধ আমদানি হলে আমাদের ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যাবে।”





