Brick Lane News

ফার্নেস অয়েলচালিত ৪০টি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮ থেকে ১০ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে এসব কেন্দ্রের পাওনা জমেছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। বিল পরিশোধে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে ডলারের বিনিময় হার ও সুদের বোঝায় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে উদ্যোক্তারা।

দ্রুত বকেয়া পরিশোধ না হলে পবিত্র রোজা ও আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিইপপাএ)।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এক বছর আগে বকেয়ার পরিমাণ ছিল ৯ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকায়।

সংবাদ সম্মেলনে বিইপপাএ সভাপতি কে এম রেজাউল হাসনাত বলেন, গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। রোজার আগে বকেয়ার একটি অংশ পরিশোধ না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

তিনি বলেন, বকেয়ার অন্তত ৬০ শতাংশ পরিশোধ করা হলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তবে ৩ থেকে ৪ মাসের বেশি বকেয়া থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

‘বিদ্যুৎ খাতে বৈষম্যমূলক আচরণ, চুক্তি লঙ্ঘন ও বিনিয়োগ আস্থার সংকট’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিইপপাএর সাবেক সভাপতি ইমরান করিম। তিনি অভিযোগ করেন, দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে জরিমানা কঠোরভাবে আদায় করা হলেও আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে পিডিবি একই নীতি অনুসরণ করছে না।

তিনি বলেন, দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রকে জ্বালানি আমদানিতে শুল্ক দিতে হয়, অথচ বিদ্যুৎ আমদানিতে কোনো শুল্ক নেই। বকেয়া হলেই আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেয় এবং বন্ধও করেছে। অন্যদিকে দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া কখনোই চার মাসের নিচে নামেনি। বর্তমানে এলসি খোলা, জ্বালানি সরবরাহকারীদের বিল পরিশোধ ও ব্যাংক দায় মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পিডিবির সাম্প্রতিক জরিমানা আদায়ের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়। বিইপপাএ জানায়, চুক্তি অনুযায়ী পিডিবি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ রাখতে পারে। কিন্তু বিপুল বকেয়া থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। আর্থিক সংকটে উৎপাদন সীমিত করতে বাধ্য হলে সেটিকে অপর্যাপ্ত সরবরাহ দেখিয়ে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে, যা আইন ও চুক্তির পরিপন্থী।

বিইপপাএর দাবি, দেশীয় ও বিদেশি কোম্পানির ক্ষেত্রে জরিমানার বিধান ভিন্নভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। ৩০টি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জরিমানা প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে আবেদন করা হলেও তা খারিজ করা হয়েছে।

বিইপপাএ সভাপতি কে এম রেজাউল হাসনাত বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা সময় লাগে। নতুন সরকারকে চাপে ফেলাই তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। তবে রোজা ও সেচ মৌসুমের আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *