Skip to main content

Brick Lane News

ঢাবিতে মুখোমুখি শিক্ষক সংগঠন ও প্রশাসন

ঢাবিতে মুখোমুখি শিক্ষক সংগঠন ও প্রশাসন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক সংগঠন হিসেবে পরিচিত নীল দল তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির অভিযোগ, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গৃহীত তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে নীল দলের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো শিক্ষককে শাস্তি দেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর নীতির পরিপন্থি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, বহুমতের সহাবস্থান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখার স্বার্থে এসব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্যাম্পাসে নীল দলের প্রকাশ্য কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে। পরে সংগঠনটির নতুন কমিটিতে জীববিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক এ কে এম মাহবুব হাসানকে আহ্বায়ক এবং অধ্যাপক বাহাউদ্দিন ও অধ্যাপক মো. জাভীদ ইকবাল বাঙালীকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।

নীল দলের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে অনিচ্ছুক। তাদের ভাষ্য, অনেক শিক্ষক ইতোমধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরেছেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, নীল দলের শিক্ষকদের অন্য রাজনৈতিক বলয়ে যেতে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং সম্ভাব্য শিক্ষক সমিতি নির্বাচনকে ঘিরেও চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জিনাত হুদা বলেন, তদন্ত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্যও যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, একটি শিক্ষক সংগঠনকে দলগতভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, উপাচার্যের কাছে আসা অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হলে কাউকে হয়রানি করা হবে না বলেও তিনি জানান।

গত ২৭ জুলাই ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকমণ্ডলী’ ব্যানারে বিএনপিপন্থি সাদা দল এবং জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তুলে নীল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং ২৩১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, তাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, গত দেড় দশকে নীল দল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচি ও তৎকালীন সরকারের প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।