Skip to main content

Brick Lane News

ব্রিটিশ টাকায় কেনা গাড়ির ধাক্কায় ফরাসি পুলিশে বিশৃঙ্খলা তদন্ত শুরু

ব্রিটিশ টাকায় কেনা গাড়ির ধাক্কায় ফরাসি পুলিশে বিশৃঙ্খলা তদন্ত শুরু

ব্রিকলেন নিউজ, লন্ডন: ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে ব্রিটিশ করদাতাদের টাকায় কেনা পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী আহত হয়েছে। এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ফ্রান্সকে দেওয়া অর্থে গাড়িগুলো কেনা হয়েছিল। কিন্তু উত্তর ফ্রান্সের ডানকার্কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় ওই গাড়িগুলোর একটি ব্যবহার করা হয় বলে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের স্যান্ডহার্স্ট চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সীমান্ত সহযোগিতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব শক্তিশালী চার চাকার গাড়ি কেনা হয়। চুক্তিটির লক্ষ্য ছিল ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করা অনিয়মিত অভিবাসীদের ঠেকানো।

ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএম টিভি গত ১০ অক্টোবর প্রথম ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ‘মাসটেক ভেজি’ মডেলের একটি গাড়ি শিক্ষার্থীদের দিকে দ্রুত এগিয়ে যায়। এরপর গাড়িটি পেছনে নিয়ে আবার সামনে এগিয়ে আসে। এ সময় একটি ময়লার ঝুড়ি গাড়ির সামনের চাকায় আটকে মাটির ওপর দিয়ে টেনে নেওয়া হয়। ভিডিওতে তরুণদের চিৎকার করে গাড়িটির পথ থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করতে শোনা যায়।

ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে সৃষ্ট ফোলাভাব বা হেমাটোমা শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে ওই কিশোরী।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লরাঁ নুনেজের কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে পারি, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।”

উত্তর ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থা ইউটোপিয়া ৫৬-এর একজন মুখপাত্র অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে চার চাকার গাড়ি দিয়ে ধাওয়া করার কৌশলটি ফ্রান্সের সমুদ্রসৈকতে অভিবাসীদের ঠেকাতেও ব্যবহার করা হয়। তার ভাষ্য, মানুষকে নীরব, ভীত ও নিরুৎসাহিত করতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে যে দমনমূলক কৌশল পরীক্ষা করা হচ্ছে, তা সবার জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।

এদিকে, ফ্রান্সজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় শনিবার ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার বলে অনুমান করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নুনেজ।

প্যারিস, মার্সেই ও লিলের মতো বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীদের পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে, দোকানপাটে লুটপাট চালাতে এবং ভবন ও গাড়িতে আগুন দিতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শনিবারের সহিংসতায় পুলিশ, জেন্ডারমেরি ও দমকলকর্মীসহ প্রায় ৫০০ জরুরি সেবাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফ্রান্সের খুচরা ও বাণিজ্য ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি দোকান ও খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সহিংসতা নিয়ে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, তার সরকার সহিংসতার কাছে নতি স্বীকার করবে না। তিনি এই অস্থিরতার জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীদের দায়ী করেছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে সীমান্ত বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নেই।