সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতের ‘দ্য ওয়াল’কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, শেখ সেলিম দলের সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় তার অনুপস্থিতিতে তিনিই এই দায়িত্ব সামলাবেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন।
অমল সরকারের সঙ্গে আলাপচারিতায় শেখ হাসিনা তার দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ডিসেম্বর মাসটি বিজয়ের মাস হওয়ায় তিনি এই সময়টি বেছে নিয়েছেন। তবে দেশে ফিরলে তাকে হত্যার ঝুঁকি রয়েছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।’
দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা সতর্ক করেন যে, এর খেসারত ভারতকেও দিতে হবে। তার মতে, বাংলাদেশের অস্থিরতা ও মৌলবাদী শক্তির বিস্তার ভারতের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ সময় তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। তার দাবি, ৪৬০টি থানা লুট হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লক্ষ মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ পুলিশের ওপর বীভৎস নির্যাতন চালানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণভবন ছাড়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি দেশ ছাড়তে চাননি। হেলিকপ্টারে সীমান্ত অতিক্রম করার আগ পর্যন্ত তিনি জানতেন না যে তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে; বরং তিনি ভেবেছিলেন তাকে টুঙ্গিপাড়ার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করেছি। তাদের লাশ ফেলার মাধ্যমে আমাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে কেন?’
দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশটা আমার। আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করেছেন। আমি ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বিএনপি সরকার আমাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছে, অথচ আমি নিজেই তো দেশে ফিরতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, দেশে ফেরার অনুমতি না পাওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিদেশে বসে রাজনীতি করা এবং তার ভারত সফর নিয়ে দর কষাকষি নিজের দেশকেই ছোট করার শামিল।
সবশেষে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোই এখন তার লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় যখন দেখি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাতে যদি আমার জীবনও যায়, তবুও আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।’ প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই কারণেই দুই দেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করল, (প্রধানমন্ত্রী) তারেককে ফিরিয়ে আনল—সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারতের অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনার এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার কথায়, কোনও সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে অন্য কারও জীবন যাতে বিপন্ন না হয়, সেই আশঙ্কাও বারবার উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার যদি আপনাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দেয়, তাহলে আপনার কিভাবে দেশে ফেরা সম্ভব।