Skip to main content

Brick Lane News

পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচন: ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনার মধ্যে আটক বিধায়ক হুমায়ুন কবীর

পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচন: ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনার মধ্যে আটক বিধায়ক হুমায়ুন কবীর

পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিধানসভা কেন্দ্র—রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর পরই রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে উঠেছে। ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। হুমায়ুন কবীরকে টেঁনেহিঁচরে গাড়িতে তুলে রোজিনগর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৭টায় এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

সকাল থেকেই নিজের গ্রামের বুথে ভোট প্রদানের পর হুমায়ুন কবীর ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে পুলিশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর তিনি রেজিনগরে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতা ও উত্তেজনার জন্য উসকানি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই সংবাদের ভিত্তিতে রেজিনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়েই তিনি ভোট লুটের অভিযোগ তুলেন ও পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। এরপর গাড়ি করেসোজা রেজিনগরে দলীয় কার্যালয়ে চলে আসেন তিনি। সূত্রের খবর, সূত্রের খবর দলীয় কার্যালয়ে বসে হুমায়ুন কবীর বিভিন্ন জায়গায় ‘হিংসা’এবং ‘উত্তেজনায়’উস্কানি দিচ্ছিলেন।

পুলিশ তাকে দ্রুত বাড়ি ফেরার নির্দেশ দিলেও তিনি তা অগ্রাহ্য করলে জোরপূর্বক তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার সময় হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, তিনি জানেন না তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নাকি আটক রাখা হয়েছে। এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে শাঁখারভ সরকার (রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী) মন্তব্য করেন যে, হুমায়ুন কবীর কিছুদিন আগেই ভোটের দিন সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন এবং পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় তাকে আটক করা হয়েছে। গাড়িতে তোলার সময় হুমায়ুন কবীর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েবলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না আটক করা হচ্ছে, আমি কিছুই জানি না। ”। হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাঁখারভ সরকার বললেন, “হুমায়ুন কবীর তো কয়েকদিন আগেই বলেছিলেন ভোটের দিন ১০ টা লাশ পড়বে।

নির্বাচনী এলাকায় বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসন দুটিতে উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে শুভেন্দু অধিকারী ও হুমায়ুন কবীরের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফার মাধ্যমে। নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানী রথ, তৃণমূলের বিদ্রোহী অংশের মহম্মদ এতেশামুল হক, কংগ্রেসের মিলন প্রধান এবং সিপিআই প্রার্থী শান্তি গোপাল গিরি ও আইএসএফ প্রার্থী আলী মোহাম্মদ সাবে মিরাজ খান লড়াই করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এই আসনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে।

রেজিনগর কেন্দ্রে বিজেপির শাখারভ সরকার, তৃণমূল কংগ্রেসের রবিউল আলম চৌধুরী, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির গোলাম নবী আজাদ, ঋতব্রত তৃণমূলের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ এবং কংগ্রেস প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফির মতো প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও আজ ভারতের তামিলনাড়ুর দুটি আসন (মাদুরান্তাকম ও ধারাপুরম) এবং পুডুচেরির একটি (থাট্টানচাভাদি) কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি আসামের নওগাওঁ লোকসভা আসনেও ভোটগ্রহণ চলছে। আগামী ৯ অক্টোবর এই সবকটি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।