নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক-এর আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আমেজ তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করায় সংগঠনটির কার্যকরী পরিষদের ২১টি পদের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার লড়াই শুরু হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মোট ৩৫ হাজার ২১৫ জন নিবন্ধিত ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুটি শক্তিশালী প্যানেলের মধ্যে। এর মধ্যে একটি হলো বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন ‘সেলিম-আলী পরিষদ’। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন ‘কুনু-ফিরোজ পরিষদ’। এই দুই প্যানেলের মোট ৪২ জন প্রার্থীর পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার ফলে মোট ৪৩ জন প্রার্থী চূড়ান্ত ভোটযুদ্ধে থাকছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর কুইন্স প্যালেসে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তখন প্রাথমিকভাবে ৪৪ জন প্রার্থী থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপ শেষে চূড়ান্ত তালিকায় ৪৩ জন প্রার্থীকে রাখা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটির মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই, ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ, ৯ সেপ্টেম্বর আপিল, ১০ সেপ্টেম্বর প্রত্যাহার এবং ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য যে, শুরুর দিকে সাধারণ সম্পাদক পদে রাব্বী সৈয়দ এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শক্তি ডি গুপ্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসেরের নেতৃত্বে কমিশন কাজ করছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকালে তিনি জানান, ভোটার তালিকায় প্রায় ৩০০ ডাবল ভোটার শনাক্ত হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সকল প্রার্থী ও ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সোসাইটির ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচনটি যদি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তা প্রবাসী নতুন প্রজন্মের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে আগের ১৯টির পরিবর্তে ২১টি পদের জন্য ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি গঠনতান্ত্রিক পরিবর্তনের কারণে নতুন কমিটির মেয়াদ দুই বছরের পরিবর্তে তিন বছর অর্থাৎ ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ৪৩ প্রার্থী ও ২১টি পদের জন্য আয়োজিত এই নির্বাচন ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ৩৫ হাজার ২১৫ জন ভোটারের একটি বড় অংশকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা। ২৫ অক্টোবর রাতের ভোট গণনা শেষে জানা যাবে আগামী তিন বছরের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সংগঠনটি কাদের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। সেলিম-আলীর বর্তমান নেতৃত্ব বহাল থাকবে নাকি পরিবর্তনের ডাক দিয়ে কুনু-ফিরোজ পরিষদ ক্ষমতায় আসবে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো কমিউনিটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এবারের নির্বাচনে ভোটার প্রায় ৩৫ হাজার; নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার ২১৫ জন বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডাবল ভোট যাতে না হয় এজন্য তাদের চিহ্নিত করে হাইলাইট করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের ১৯ সদস্যের পরিবর্তে এবার বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী পরিষদে ২১টি পদ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং যুব ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ নতুন দায়িত্ব যুক্ত হওয়ায় কার্যকরী পরিষদের পরিধি বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ বর্তমান নেতৃত্বই নতুন মেয়াদের জন্য ভোটারদের ম্যান্ডেট চাইছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই পরিষদের প্রার্থীরা হলেন-সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান কামরুল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক হারুণ অর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ নওশাদ হায়দার, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এ এস এম মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ হোসেন এবং যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কার্যকরী সদস্য পদে রয়েছেন মোহাম্মদ উজ্জ্বল পিপুল, শামীম আহমেদ, সারওয়ার খান বাবু, মোহাম্মদ এ মান্নান, মোহাম্মদ আব্দুল মালেক খান ও কাজী রবিউজ্জামান।