সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের শিল্পকারখানা ও আবাসিক এলাকায় গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাভার আঞ্চলিক কার্যালয় ও ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গত কয়েক দিনের তুলনায় গ্যাসের চাপের কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ২০০ কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পের বয়লার ও আয়রন সেকশনে গ্যাসের চাহিদা বেশি থাকে। স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য ১০ থেকে ১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও, গত কয়েক দিন সরবরাহ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছিল। বুধবার থেকে ২ থেকে ৩ পিএসআই পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, যা উৎপাদনের চাকা সচল রাখতে সহায়তা করছে।
কারখানার পরিস্থিতির বিষয়ে সাভারের একটি পোশাক কারখানার পরিচালক মরতুজ আলী বলেন, গত কয়েক দিন বয়লার ও আয়রন চালাতে পারিনি। এখন গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও তা এখনও অপ্রতুল, তবে আজ কিছু কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। ধামরাইয়ের অপর এক কারখানার জেনারেল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান জানান, যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে তাতে স্বল্প পরিসরে কাজ চলছে, যা একেবারেই না থাকার চেয়ে ভালো।
আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তবে সাভারের রেডিও কলোনির বাসিন্দা ফেরদৌসি সুলতানা জানান, দীর্ঘ দুই মাস গ্যাস না থাকার পর কিছুটা মিললেও রান্না করা এখনও কষ্টসাধ্য। অনেকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন বলে জানিয়েছেন পৌর এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার।
তিতাস গ্যাসের আশুলিয়া জোনের প্রকৌশলী আবু ছালেহ মুহাম্মদ খাদেমুদ্দীন জানান, পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো এবং পর্যায়ক্রমে আরও উন্নতির আশা করা হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১ ঢাকার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূইয়া জানান, গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কোনো কারখানা বন্ধ হওয়ার খবর নেই। এছাড়া বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়ায় আগের অচলাবস্থা কেটে যাচ্ছে এবং শিল্প বাঁচাতে এই ধারা অব্যাহত রাখা জরুরি।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির তথ্য দিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, বুধবার দুপুর ২টার হিসাব অনুযায়ী সাভার গ্রিডে ৪২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৩৭ মেগাওয়াট সরবরাহ ছিল এবং লোডশেডিং ছিল ৫ মেগাওয়াট। একই সময়ে নবীনগর গ্রিডে ৯০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৭৮ মেগাওয়াট সরবরাহ এবং ১২ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। ধামরাই ও মির্জাপুর গ্রিডে যথাক্রমে ১১ মেগাওয়াট ও ৩ মেগাওয়াট চাহিদা অনুযায়ী পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল।
কবিরপুর গ্রিডে ২৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২১০ মেগাওয়াট সরবরাহ ছিল, যার ফলে ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। অন্যদিকে কড্ডা গ্রিডে ১১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৭৫ মেগাওয়াট সরবরাহ ছিল, যেখানে ১৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং এবং ২০ মেগাওয়াট ফিডার শাটডাউন ছিল। এছাড়া সামিট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৯ মেগাওয়াট সরবরাহ থাকলেও ইউনাইটেড পাওয়ার থেকে সরবরাহ ছিল শূন্য মেগাওয়াট।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন এলাকায় দুপুর ২টার তথ্য অনুযায়ী মোট ৫১৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। এসময় এনএলডিসি লোডশেডিং ছিল ৭২ মেগাওয়াট এবং ২০ মেগাওয়াট ওভারলোড ছিল। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. আক্তারুজ্জামান লস্কর বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়েছে এবং গুরুত্ব বিবেচনা করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল বুধবার সাভারের রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুর এবং আশুলিয়ার জামগড়া, কাঠগড়া, জিরাবো, নরসিংপুর, বেরুন, শিমুলতলা, পলাশবাড়ী, নিশ্চিন্তপুর, বাইপাইল ও জিরানী এলাকার বিভিন্ন কারখানা ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই সিলিন্ডার এনে তা দিয়েই রান্না করছি। ”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরও বলেন, “সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সে অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে এনএলডিসির হিসাবে লোডশেডিং ছিল ১৫ মেগাওয়াট।