দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে চূড়ান্তভাবে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া শেষ হয়। এর মাধ্যমে ইরাকে থাকা মার্কিন সব সামরিক ঘাঁটিও গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘ সামরিক অভিযানে অন্তত ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে চলতি বছরে ইরানের সঙ্গে চলমান বিভিন্ন সংঘাতের জেরে সাতজনসহ মোট ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। গত জুলাই মাসে এরবিলের কাছে একটি ঘাঁটিতে ড্রোন প্রতিহত করার সময় এক মার্কিন সার্জেন্ট নিহত হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য।
মার্কিন এই সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাটি মূলত ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সঙ্গে করা চুক্তির অংশ ছিল। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চূড়ান্তভাবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করল, যা এমন সময়ে সম্পন্ন হলো যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। তেহরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের এই চলে যাওয়াকে নিজেদের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত জয় হিসেবে উদযাপন করছে।
২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের পতনের মাধ্যমে দেশটিতে মার্কিন বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির সূচনা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিদ্রোহ দমনে যুক্তরাষ্ট্র বড় ভূমিকা পালন করে। ২০১১ সালের শেষ দিকে একবার সেনা প্রত্যাহার করা হলেও, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান ঘটলে ২০১৪ সালে মার্কিন বাহিনী আবারও ইরাকে ফিরে আসে। পরবর্তীতে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তারা আইএসের বিরুদ্ধে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করে।
মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ায় এখন ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগে আইএস পুনর্গঠিত হওয়ার পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরও প্রভাব বিস্তার করতে পারে। ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী মার্কিন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা ছাড়াই নিজেদের দায়িত্ব কতটুকু কার্যকরভাবে সামলাতে পারবে, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের উদ্বেগ রয়ে গেছে, যদিও সাধারণ ইরাকিদের কাছে এই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয় ছিল।