Skip to main content

Brick Lane News

জাতিসংঘের মঞ্চে তারেক রহমান: জিয়া-খালেদার রাজনৈতিক ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়

জাতিসংঘের মঞ্চে তারেক রহমান: জিয়া-খালেদার রাজনৈতিক ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচালনায় জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করে বিশ্বমঞ্চে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাবা ও মায়ের দেখানো পথ ধরে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি এবার প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন। এই সফরটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো.। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ২৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, এটি বাংলাদেশের জন্য এক বিশেষ ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। ১৯৮০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এরপর ১৯৯৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সরকারপ্রধান হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তাদের উত্তরসূরী হিসেবে তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম ভাষণ প্রদান করবেন। এই ভাষণে বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের আগামীর অবস্থানের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ফুটে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি কূটনৈতিক ভাষণ নয়, বরং দেশের নতুন নেতৃত্বকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। সফরের অংশ হিসেবে মেটা, ওয়াল স্ট্রিটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে এই সফরকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকারি প্রতিনিধিদল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে তিনি হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক জাতিসংঘ কর্মসূচি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে স্ত্রী ডা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার শুরু হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং পরে ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করাই হবে তাঁর বক্তব্যের অন্যতম লক্ষ্য।