বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক বার্তা লেখা ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর মাঠে উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও বেঞ্চে থাকা জিওভানি লো চেলসো একটি ব্যানার তুলে ধরেন। ব্যানারে লেখা ছিল ‘Las Malvinas son Argentinas’, যার অর্থ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’
ফিফার মতে, এই ঘটনা স্টেডিয়াম আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। কারণ, স্টেডিয়ামে এমন কোনো বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ, যা খেলাধুলার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং যার মধ্যে রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা আপত্তিকর বিষয় থাকতে পারে।
ফিফা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তাদের স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি ম্যাচ রিপোর্ট পর্যালোচনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনা করছে। এরপর ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফিফার এক মুখপাত্র আলজাজিরাকে বলেন, ‘ফিফার স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি বর্তমানে ম্যাচ রিপোর্ট মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করছে।’
ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড় বা আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের জন্য ফিফার জরিমানার পরিমাণ সাধারণত প্রায় ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে রোববার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
বুধবার ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রবীণদের আবেগে আঘাত লাগতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্টিনেজ বলেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনার জনগণকে হতাশ করতে পারতাম না।’
উল্লেখ্য, মার্টিনেজ গত চার বছর ধরে ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলছেন।