ঢাকা: উপসচিব থেকে শুরু করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাসিক গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা অর্ধেক (৫০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা) করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা থেকে পিছু হটেছে সরকার। অর্থাৎ, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা আগের মতোই প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
এই আর্থিক সুবিধাটি কেবল সিভিল বা বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তারাই পান না, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও পেয়ে থাকেন। ভাতা কমানোর উদ্যোগ নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বেশ কয়েক দফা চিঠি চালাচালি হয়, যার জেরে অনেক কর্মকর্তার মধ্যেই চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
নতুন চিঠি ও আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক স্থগিত গত ১৩ জুলাই অর্থ বিভাগ ভাতা কমানোর প্রস্তাব দিলেও, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে অর্থ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নতুন এক চিঠিতে আগের প্রস্তাবটি নিয়ে আর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর ফলে মাসিক গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা ৫০ হাজার টাকাই বহাল থাকছে।
এদিকে, এই ভাতা সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর ওই বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।
সুদহীন ঋণ বাতিল ও প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট এর আগে, প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদহীন ঋণ সুবিধা পেতেন। সরকার গত ৯ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন করে এই ঋণ সুবিধা বাতিল করে দেয়। তবে যেসব কর্মকর্তা ইতোমধ্যে এই সুদহীন ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছিলেন, তাদের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, জ্বালানি ও চালকের বেতন বাবদ সরকার মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা দিয়ে আসছিল।
ঋণ বাতিলের কয়েকদিন পর ১৩ জুলাই অর্থ বিভাগ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে আরেকটি চিঠি দিয়ে এই রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছিল। কীভাবে এই হ্রাস বাস্তবায়ন করা যায়, তার উপায় বের করার দায়িত্ব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
ভাতা কমানোর পেছনের যুক্তি অর্থ বিভাগ তাদের আগের চিঠিতে ভাতা কমানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেছিল, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে, মূল্যস্ফীতি সহনশীল পর্যায়ে রাখতে এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই সরকারের ব্যয় কমানো প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই সুদহীন গাড়ি কেনার ঋণ পাওয়া কর্মকর্তাদের মাসিক আর্থিক সুবিধা (ভাতা) কমানোর সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে সৃষ্ট অসন্তোষ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে সরকার শেষ পর্যন্ত ভাতা কমানোর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল।