চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রেলপথ ডুবে যাওয়ায় কক্সবাজার রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যটক এক্সপ্রেসের পর এবার ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’-এরও কক্সবাজারের দিকের যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেললাইনের ওপর পানি থইথই করায় বর্তমানে এই রুটে চলাচলকারী ৪টি ট্রেনেরই যাত্রা স্থগিত রয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ রেলওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় রেলপথের ওপর পানি রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে আসে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’। বুধবার ভোরে ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। তবে চট্টগ্রাম নগরীর সুন্নিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় রেললাইন বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় ট্রেনটি আর কক্সবাজারের দিকে যেতে পারেনি।
এর ফলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যবর্তী অংশে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর থেকে জানালিহাট পর্যন্ত রেললাইনের একটি অংশ প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “যেহেতু লাইনের ওপর থেকে পানি নামেনি, তাই কক্সবাজার এক্সপ্রেসের পক্ষে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ট্রেনটি কক্সবাজার না গিয়ে বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকেই সরাসরি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে।”
আটকে পড়া পর্যটক এক্সপ্রেস ও যাত্রী ভোগান্তি এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে একই রুটের ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে ষোলশহর স্টেশন অতিক্রম করার পর সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় লাইনের ওপর পানি দেখে থমকে দাঁড়ায়। নিরাপদ দূরত্বের কথা বিবেচনা করে ট্রেনটিকে পুনরায় উল্টো পথে ষোলশহর স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতে ট্রেনটি চট্টগ্রামের প্রধান রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বুধবার সকালে এটি ঢাকার উদ্দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
একই কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী বাকি দুটি ট্রেনও বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা ‘প্রবল এক্সপ্রেস’ এবং ওই দিন রাতে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা থাকা ‘সৈকত এক্সপ্রেস’।
টিকিট ফেরত ও বিকল্প ব্যবস্থা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় যেসব যাত্রীর যাত্রা বাতিল হয়েছে, তারা চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিটের টাকা ফেরত (রিফান্ড) নিতে পারবেন।
এ ছাড়া যেসকল যাত্রী ঢাকা ফিরে যেতে চান, তারা তাদের আগের টিকিট ব্যবহার করেই বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন।
অনাকাঙ্ক্ষিত ও প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে যাত্রীদের সাময়িক এই চরম ভোগান্তির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।