Skip to main content

Brick Lane News

পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলেছিল প্রাচীন গ্রহাণুর আঘাত: নতুন গবেষণা

পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলেছিল প্রাচীন গ্রহাণুর আঘাত: নতুন গবেষণা

সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (SwRI) বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর আদিম ও প্রলয়ংকরী সূচনালগ্ন নিয়ে নতুন এক গবেষণায় দেখেছেন, প্রাচীনকালের গ্রহাণুর আঘাত সম্ভবত পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল।

তাদের কম্পিউটার মডেলের তথ্য অনুযায়ী, বারবার গ্রহাণুর সংঘর্ষ শুধু তরুণ পৃথিবীর উপরিভাগেরই পরিবর্তন করেনি; বরং এর ফলে বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ‘হাইড্রোথার্মাল সিস্টেম’ বা উষ্ণ জলের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা পৃথিবীতে প্রাণের উন্মেষের জন্য একেবারে সঠিক পরিস্থিতি জুগিয়ে থাকতে পারে।

এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে গবেষকরা পৃথিবীতে গ্রহাণু আঘাত হানার আদি ইতিহাস নিয়ে একটি সিমুলেশন তৈরি করেন। এতে দেখা যায়, এসব শক্তিশালী সংঘর্ষের ফলে পৃথিবীর ভূত্বক ফেটে গিয়ে ভূগর্ভস্থ অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত পথ তৈরি হয়েছিল। এই পথগুলো দিয়েই ভূত্বকের ওপরের স্তরগুলোতে অবাধে জল চলাচল করতে পারত। উচ্চ গতির আঘাত কীভাবে কঠিন পাথরকে ভেঙে তরল চলাচলের উপযোগী (পারমিয়েবল) করে তোলে, তা পরিমাপ করতে গবেষক দলটি একটি অত্যাধুনিক ‘শক ফিজিকস কোড’ ব্যবহার করেছেন।

‘এজেইউ অ্যাডভান্সেস’ (AGU Advances) সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক আমান্ডা আলেকজান্ডার বলেন, “প্রাণের উৎপত্তির প্রথম দিকের পরিবেশ বোঝার জন্য এই মডেলিং অভিনব ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাইনোসর বিলুপ্তির ক্ষেত্রে গ্রহাণুর আঘাতকে কেবল ধ্বংসাত্মক হিসেবে দেখা হলেও, পৃথিবীতে প্রাণের রাসায়নিক ভিত্তি তৈরির পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও সম্ভবত এগুলোর গভীর অবদান ছিল।”

আদি পৃথিবীকে যেভাবে বদলে দিয়েছিল গ্রহাণু প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবী সৃষ্টির পরপরই এটি তীব্র গ্রহাণু আক্রমণের শিকার হয়। উচ্চ গতির এসব আঘাত পৃষ্ঠের নিচের বিপুল পরিমাণ পাথর চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় এবং গলিত পাথর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি সংঘর্ষ থেকে উৎপন্ন প্রচণ্ড তাপ এবং পৃথিবীর নিজস্ব ভূ-তাপীয় শক্তির মিলনে সদ্য ফাটল ধরা ভূত্বকের মধ্য দিয়ে গরম জল প্রবাহিত হতে শুরু করে। এর ফলে সৃষ্ট হাইড্রোথার্মাল সিস্টেমগুলো (যা যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কের গিজার বা উষ্ণ প্রস্রবণের নেটওয়ার্কের মতো) সম্ভবত প্রাণের উৎপত্তি ও প্রাথমিক বিবর্তনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছিল।

প্রক্রিয়াটি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য গবেষকরা বিভিন্ন আকার ও গতির গ্রহাণুর প্রভাব নিয়ে সিমুলেশন করেন। ফলাফল অনুযায়ী, সেই আদিম যুগে একটি বড় গ্রহাণুর আঘাত বর্তমান ইয়েলোস্টোন অঞ্চলে দেখা যাওয়া হাইড্রোথার্মাল কার্যকলাপের চেয়েও ১০০ গুণ বেশি তাপীয় প্রভাব তৈরি করতে সক্ষম ছিল।

আমান্ডা আলেকজান্ডার বলেন, “যেহেতু প্রাণের উৎপত্তি বা বিবর্তন হাইড্রোথার্মাল পরিবেশে হয়ে থাকতে পারে, তাই আদি পৃথিবীতে গ্রহাণুর আঘাতের মাধ্যমে এই সিস্টেমগুলো কীভাবে তৈরি হয়েছিল তা বোঝা খুব জরুরি।”

পৃথিবীর ভূত্বকে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব মডেলগুলো নির্দেশ করে যে, সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ফাটলযুক্ত ও জল প্রবেশের উপযোগী পাথরের পরিমাণ মূলত গ্রহাণুর আকার ও গতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। আলেকজান্ডার জানান, বারবার আঘাত হানার ইতিহাস পর্যালোচনা করে তারা অনুমান করছেন, প্রায় ৪৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর ভূত্বকের ওপরের ৫ মাইল (৮ কিলোমিটার) স্তর অত্যন্ত ছিদ্রযুক্ত ছিল। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সম্ভবত ৩৫০ কোটি বছর আগপর্যন্ত এভাবেই টিকে ছিল।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ফলাফল প্রমাণ করে যে, আদি পৃথিবীর ভূত্বকে হাইড্রোথার্মাল পরিবর্তন আনার পেছনে এই আঘাতগুলোই ছিল মূল চালিকাশক্তি। পৃথিবীর পৃষ্ঠের কাছাকাছি পরিবেশের ভূ-রাসায়নিক বিবর্তনের ক্ষেত্রে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।”