দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে ভারত বিবেচিত হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
ব্রিকলেন নিউজ ডেস্কঃ
ভারতের সাথে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় কর্মকর্তাদের নতুন গন্তব্য হিসেবে সামনে আসছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পাকিস্তানে প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত দেড় দশকে ভারতের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর গুড গভর্নেন্স’ (NCGG) সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার বাংলাদেশি কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই সম্পর্ক ও নিয়মিত যাতায়াতে স্থবিরতা নেমে আসে। ফলে ভারতের সাথে পূর্বনির্ধারিত অনেক প্রশিক্ষণ কোর্স বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এই অবস্থায় বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানসহ অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
জনপ্রশাসন ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানে প্রশিক্ষণের জন্য কর্মকর্তাদের একাধিক ব্যাচ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি’ (NDU) এবং ‘ন্যাশনাল স্কুল অফ পাবলিক পলিসি’ (NSPP)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ঝিমিয়ে পড়া প্রশাসনিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আবারও প্রাণবন্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা মূলত সুশাসন, জননিরাপত্তা, কৌশলগত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈদেশিক সম্পর্কের এই ভারসাম্য রক্ষা এবং নতুন গন্তব্য নির্ধারণ প্রশাসনিক সংস্কারের একটি অংশ হতে পারে। দীর্ঘ সময় একমুখী সম্পর্কের কারণে যে একঘেয়েমি বা নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে কর্মকর্তাদের এই প্রশিক্ষণ সফর কেবল পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ নয়; তুরস্ক, কাতার এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সাথেও নতুন নতুন প্রশিক্ষণ চুক্তি বা সমঝোতার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কর্মকর্তাদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। ভারত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়, বরং সব দেশের সাথে সমমর্যাদার ভিত্তিতে অভিজ্ঞতা বিনিময় করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
তবে বর্তমান বাস্তবতায় পাকিস্তান সফরগুলো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।