Brick Lane News

পাকিস্তানের মানবাধিকার নিয়ে হিউম্যান রাইটস কমিশনের প্রতিবেদন

প্রকাশিত ৭ মে ২০২৬ । ১:৩৯ এএম

হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান (HRCP) ৪ মে সোমবার তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে গত এক বছরে নাগরিক অধিকারের সংকোচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হওয়া এবং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একইসাথে দেশে মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা খর্ব করার যে গভীর অপচেষ্টা চলছে, তা নিয়েও তারা সোচ্চার হয়েছে।
ইসলামাবাদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ,স্টেট অব হিউম্যান রাইটস ইন ২০২৫’শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন এইচআরসিপির চেয়ারপারসন আসাদ ইকবাল বাট, সাবেক চেয়ারপারসন হিনা জিলানি, কো-চেয়ার মুনিজায়ে জাহাঙ্গীর, ভাইস-চেয়ার নাসরিন আজহার এবং মহাসচিব হ্যারিস খালিক।
প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো সহজভাবে নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মানুষের কথা বলার অধিকার—বিশেষ করে কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করা বা জবাবদিহিতা চাওয়ার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। এটি আইনের শাসন এবং মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

২. ভিন্নমত দমনে আইনের অপব্যবহার
সরকার ভিন্নমত দমন করতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন মারপ্যাঁচ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিশেষ করে:
PECA (ইলেকট্রনিক অপরাধ আইন):এই আইনের সংশোধনী এবং রাষ্ট্রদ্রোহ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী এবং আইনজীবীদের টার্গেট করা হচ্ছে।
ভয়ের পরিবেশ: গুম, হুমকি এবং চলাফেরায় বিধিনিষেধের কারণে মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা নিজের কথা নিজে চেপে রাখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
৩. বিনা বিচারে আটক ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী:ফেডারেল ও বেলুচিস্তান পর্যায়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমনকি সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো ব্যক্তিকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই তিন মাস পর্যন্ত আটকে রাখার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একে মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এইচআরসিপি।
২৭তম সংবিধান সংশোধনী: এই সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বাড়ানো হয়েছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এছাড়া সামরিক আদালতে বেসামরিক নাগরিকদের বিচারের বিষয়টিও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সংকীর্ণ করেছে।
৪. নিরাপত্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবস্থা
খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং বেলুচিস্তানে চরমপন্থার উত্থানে সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
নারী, শিশু, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং হিজড়া জনগোষ্ঠী ক্রমাগত সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
খনি শ্রমিক এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিরাপত্তার কোনো উন্নতি হয়নি। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গিলগিট-বাল্টিস্তানে অবকাঠামো ধ্বংস হলেও সরকারের ভূমিকা ছিল নামমাত্র।

তবে অন্ধকারের মধ্যেও কিছু আশার আলো দেখেছে এইচআরসিপি:
সংখ্যালঘু কমিশন গঠন:জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন আইন পাস হওয়াকে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাল্যবিবাহ রোধ: ইসলামাবাদ ও বেলুচিস্তানে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পাস হওয়াকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
আদালতের রায়, উত্তরাধিকার ও বিয়ের ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার রক্ষায় উচ্চ আদালতের কিছু রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

এইচআরসিপির মতে, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি গত এক বছরে যথেষ্ট উদ্বেগজনক ছিল। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিচারিক স্বাধীনতার সংকোচন দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

Related Posts

সর্বশেষ খবর

অন্যান্য ক্যাটাগরি