Skip to main content

Brick Lane News

সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার ভোরের দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি তেলের ট্যাংকের পাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং এরপরই সেখানে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা দেয়। গত জুলাই মাস থেকে হুতিদের আক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই প্রথমবার সৌদি রাজধানীতে বিমান হামলার সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি করা হলো। রয়টার্স ও বিবিসির খবরে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার সকালে রিয়াদের দিকে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে থাকা অবস্থায়ই তারা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনো ধরনের হতাহত বা ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। সৌদি জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিয়াদের পাশাপাশি বিশ, তাইফ, ফারাসান ও লোহিত সাগরের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবুতে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো একাধিক আক্রমণ তারা প্রতিহত করেছে।

অন্যদিকে, হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, রাজধানী সানায় সৌদি আগ্রাসনের জবাব দিতেই তারা এই অভিযান চালিয়েছে। তিনি জানান, বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের মাধ্যমে রিয়াদের সংবেদনশীল স্থাপনা ও ইয়ানবুর আরামকো তেল ডিপোতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, সৌদি জোট গত এক সপ্তাহে ইয়েমেনে তিন শতাধিক হামলা চালিয়েছে।

এই হামলার জেরে রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ওই অঞ্চলে যেকোনো ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে রিয়াদের সরাসরি সামরিক সহায়তা বা হস্তক্ষেপের আহ্বান নাকচ করে দিয়েছেন। এদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, তার দেশ সৌদি আরবকে প্রযুক্তিগত সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাসে স্বাক্ষরিত সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, কোনো এক সদস্য দেশের ওপর হামলা পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি।