Skip to main content

Brick Lane News

ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অগ্রযাত্রায় নতুন সংকটে ট্রাম্প প্রশাসন

ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অগ্রযাত্রায় নতুন সংকটে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরান-সমর্থিত হুথিদের দ্রুত সামরিক অগ্রযাত্রার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব-এল-মান্দেব প্রণালি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে ওই অঞ্চলের দুটি প্রধান তেল পরিবহন পথের ওপর ইরানের প্রভাব আরও সুসংহত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন এক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের জ্যেষ্ঠ গবেষক স্টিফেন ওয়ার্টহেইমের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টির যে কৌশল নিয়েছিল, হুথিদের বর্তমান অগ্রযাত্রা সেই পরিকল্পনাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ওয়াশিংটন এমন একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে চেয়েছিল যেখানে ইরানের ওপর চাপ থাকবে কিন্তু মার্কিন অর্থনীতি বড় কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হবে না। কিন্তু হুথিদের এই উত্থান সেই কৌশলের কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালির পর বাব-এল-মান্দেবও বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ দিয়ে পরিবহন হতো। বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, বাব-এল-মান্দেব বন্ধ হলে বিশ্বের আরও প্রায় ৭ শতাংশ পেট্রোলিয়াম সরবরাহ এবং প্রায় ১২ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির গবেষক ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড শেঙ্কার সতর্ক করে বলেছেন, সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে যদি ইরান একই সঙ্গে হরমুজ ও বাব-আল-মান্দেব—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এমনটি ঘটলে ইরানের হাতে বিশাল কৌশলগত প্রভাব চলে আসবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ।

হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানো ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী আগে থেকেই ব্যাপকভাবে ব্যস্ত। এছাড়া, হুথিরা ১২ বছর আগে ইয়েমেনের রাজধানী দখল করে নিয়েছিল এবং সৌদি-নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও তাদের উৎখাত করা সম্ভব হয়নি।

সরাসরি পদক্ষেপ নিলে গত বছর ট্রাম্পের করা একটি সমঝোতা ভেস্তে যেতে পারে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা বন্ধের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের ওপর বিমান হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন সরাসরি সংঘাতে জড়ালে ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে মার্কিন বাহিনীর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় ধরনের নৌ ও বিমান শক্তির প্রয়োজন হবে। এছাড়া, গত এক বছরে হুথিদের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটায় তাদের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সম্পদের বড় অংশ সেখানে নিয়োজিত করতে হবে।

সবশেষে, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ও বিমানগুলোকে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ ও আকাশ-প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের মজুদ আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে। ট্রাম্পের সামনে এখন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে—তিনি কি হুথিদের দমনে মার্কিন শক্তি ব্যবহার করবেন, নাকি সৌদি আরব ও তাদের মিত্রদের ওপর এই ভার ছেড়ে দেবেন।