সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ১৩ প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। আগুনে পাসপোর্ট ও অন্যান্য পরিচয়পত্র পুড়ে যাওয়ায় মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও পরিচয় শনাক্ত করা হবে।
পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি সৌদি পুলিশের তদন্ত, ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলছে। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রোববার দুপুরে রিয়াদের শিফা থানার আওতাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই ১৬ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ১২ জন আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এবং একজন নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার বাসিন্দা।
নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরানোর সুনির্দিষ্ট সময় এখনো জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে দ্রুত মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পরিচয় শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মরদেহ দেশে আনা হবে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দ্রুত মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মরদেহ দেশে আনতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এ বিষয়ে সৌদি দূতাবাস এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
নিহত ১৩ জনের মধ্যে আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন মহন প্রামাণিক (২২), তার ছোট ভাই সুমন প্রামাণিক (১৬), রুবেল প্রামাণিক (৩০) ও কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫)।
এ ছাড়া সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮), খরস্রোতা গ্রামের মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮), উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭), বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২), মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০) এবং নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন (৩৮) নিহত হয়েছেন।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহতদের অনেকেই পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আশায় কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। প্রবাসে উপার্জিত অর্থে তাদের পরিবারের সংসার চলত, সন্তানদের পড়াশোনা ও ঘরবাড়ি নির্মাণের খরচও মেটানো হতো।
দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের অনেকের পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র পুড়ে যাওয়ায় মরদেহ শনাক্তকরণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হচ্ছে। এতে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি সৌদি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ডেথ সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় আইনি ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সরকারি খরচে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে। এরপর বিমানবন্দর থেকে মরদেহগুলো নওগাঁয় নিহতদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিচয় শনাক্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুতই মরদেহ দেশে পাঠানোর সময়সূচি জানানো হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তরসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।