Skip to main content

Brick Lane News

সাউরির রহস্যমৃত্যু: পিবিআইয়ের জালে বন্ধু দীপক

সাউরির রহস্যমৃত্যু: পিবিআইয়ের জালে বন্ধু দীপক

ব্রিকলেন নিউজ, লন্ডন: বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যান পিবিআই সদস্যরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একজন অতিরিক্ত কমিশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে নিয়ে গেছে পিবিআই। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে সর্বশেষ তার সঙ্গে ছিলেন বন্ধু দীপ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে দীপের মোটরসাইকেল এসে থামে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের করবীর পার্কিং গ্রাউন্ডে। এর দুই মিনিট পর সেখানে আসেন তাহসিফ। এ সময় নিজের মোটরসাইকেলের চাবি দীপের হাতে দেন তিনি।

তবে মোটরসাইকেলটি স্টার্ট না নেওয়ায় পার্কিং এলাকায় প্রায় ১৩ মিনিট অবস্থান করেন তারা। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে বেরিয়ে যান তাহসিফ ও দীপ। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ।

সর্বশেষ ওই দিন রাত ১টা ৪৫ মিনিটে মাকে ফোন করে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। পরদিন ২৮ অক্টোবর উত্তরখানের তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়।

তাহসিফের সঙ্গে সর্বশেষ অবস্থান করা দীপের দাবি, মোটরসাইকেল মেরামত করাতে তারা একটি গ্যারেজে গিয়েছিলেন। পরে একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খান। এ বিষয়ে দীপ বলেন, ‘আমরা একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলাম। সেখানে বাইকটি মেরামত করানোর পর একটি রেস্তোরাঁয় যাই এবং একসঙ্গে রাতের খাবার খাই। খাবার শেষে আমরা বের হই। এরপর ভাই তার কোনো একটি কাজে চলে যান এবং আমি নিজের বাড়িতে ফিরে আসি।’

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে তাহসিফের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, তাহসিফের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, মামলা দায়ের করা হলে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ময়নাতদন্ত শেষে তাহসিফের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং নিখোঁজ হওয়ার আগে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানতে চান তারা।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল বলেন, ‘সে দেশের একজন সম্পদ। একজন পাইলট তো দেশেরই সম্পদ। তাই সরকার তদন্ত করলে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারবে। কারা, কোন চক্র এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। তবে এ বিষয়ে আমার এখনও কিছু জানা নেই।’

ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে তাহসিফের মরদেহ উত্তরার বাসায় নেওয়া হয়। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। পরে বাদ আসর জানাজা শেষে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের একটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।