Skip to main content

Brick Lane News

অপহরণ, ধর্মান্তর ও বিয়ে: পাকিস্তানে সংখ্যালঘু কিশোরীদের ঘিরে উদ্বেগ

অপহরণ, ধর্মান্তর ও বিয়ে: পাকিস্তানে সংখ্যালঘু কিশোরীদের ঘিরে উদ্বেগ

ব্রিকলেন নিউজ –

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিশোরীদের অপহরণ, ধর্মান্তর ও বিয়ের অভিযোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা, মারিয়া শাহবাজ ও আনিকা ইসহাকের মামলা, দেশটির সংখ্যালঘু মেয়েদের নিরাপত্তা, শিশুবিবাহ এবং ধর্মান্তরের ক্ষেত্রে স্বাধীন সম্মতির প্রশ্ন সামনে এনেছে।

১৩ বছর বয়সী খ্রিস্টান কিশোরী মারিয়া শাহবাজকে পরিবারের কাছ থেকে অপহরণ করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত এবং ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে লাহোরের ১৬ বছর বয়সী খ্রিস্টান কিশোরী আনিকা ইসহাক দাবি করেছেন, গির্জায় যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে বাড়ি থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্মান্তরিত ও বিয়ের নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়।

দুটি ঘটনাই এখন পাকিস্তানের সংখ্যালঘু মেয়েদের সুরক্ষা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার অংশ।

মারিয়া শাহবাজের মামলা

মারিয়া শাহবাজের ঘটনায় মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে তার বয়স এবং বিয়েতে সম্মতির বিষয়টি।

Alliance Defending Freedom International-এর তথ্য অনুযায়ী, মারিয়ার বয়স ছিল ১৩ বছর যখন তাকে অপহরণ করা হয় এবং কথিতভাবে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে ৩০ বছর বয়সী শেখরিয়ার আহমেদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে একটি আদালতের সিদ্ধান্তে আহমেদের বক্তব্য গ্রহণ করে মারিয়াকে তার হেফাজতে দেওয়া হয়েছিল। পরে পাকিস্তানের ফেডারেল সাংবিধানিক আদালতে রিভিউ পিটিশন করা হয়। ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই এ বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল।

মামলাটি আন্তর্জাতিক মনোযোগ পায় মূলত একটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে: একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক সংখ্যালঘু কিশোরীর ধর্মান্তর ও বিয়েকে আদালত কীভাবে মূল্যায়ন করবে, বিশেষ করে যখন তার বয়স ও সম্মতি নিয়ে বিরোধ রয়েছে?

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৯ জুলাইয়ের প্রস্তাবে মারিয়াকে ১৩ বছর বয়সী পাকিস্তানি খ্রিস্টান কিশোরী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ২০২৬ সালের মার্চে তাকে অপহরণ, ধর্মান্তর ও জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

প্রস্তাবে মারিয়ার আইনি সহায়তা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

ছয় মাস বন্দি থাকার অভিযোগ আনিকার

আনিকা ইসহাকের ঘটনা জবরদস্তির আরেকটি চিত্র সামনে এনেছে।

লাহোরের ১৬ বছর বয়সী এই খ্রিস্টান কিশোরী Christian Daily International-Morning Star News-কে জানান, এক পুরুষ সহকর্মী তাকে বারবার বিয়ের জন্য চাপ দিতেন। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর, তার দাবি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি ও আরও দুই সহযোগী ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি তাকে অপহরণ করে। তখন তিনি আত্মীয়দের সঙ্গে গির্জায় যাচ্ছিলেন।

আনিকার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে বাহাওয়ালনগরে নিয়ে যাওয়া হয়, যা লাহোর থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে।

তিনি অভিযোগ করেন, অপহরণকারীরা তাকে ইসলামের ঈমানের ঘোষণা পাঠ করতে এবং এমন কিছু নথিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে, যেগুলো তাকে পড়তে দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে একটি হলফনামায় উল্লেখ করা হয় যে তিনি স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত ও বিয়ে করেছেন।

আনিকা আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ছয় মাসের বন্দিজীবনে তাকে একাধিক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নির্যাতন করা হয়।

জুলাইয়ে একটি মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে তিনি বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পরিবার আইনি সহায়তা নেয় এবং তিনি বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি আদালতে ওই বিয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করছেন।

এই ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে: কোনো নথিতে একটি বিয়েকে স্বেচ্ছায় সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলেও, সেই নথি কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল?

দুটি ঘটনা নয়, আরও বড় চিত্র

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের ২০২৬ সালের এপ্রিলের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পাকিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘু নারী ও মেয়েরা এখনও বিয়ের মাধ্যমে অপহরণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৫ সালে বিয়ের মাধ্যমে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের শিকার নারী ও মেয়েদের প্রায় ৭৫ শতাংশ ছিলেন হিন্দু এবং ২৫ শতাংশ খ্রিস্টান। নথিবদ্ধ ঘটনার প্রায় ৮০ শতাংশই ঘটেছে সিন্ধু প্রদেশে।

১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরীরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এর চেয়েও কম বয়সী মেয়েরাও এসব ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টও জুলাইয়ের প্রস্তাবে জাতিসংঘের এই পরিসংখ্যান উল্লেখ করেছে।

Centre for Social Justice-এর তথ্য, যা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত যুক্তরাজ্য সরকারের একটি দেশভিত্তিক নীতিগত প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে, বলছে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সংখ্যালঘু নারী ও মেয়েদের অপহরণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অন্তত ৪২১টি ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে।

এর মধ্যে ২৮২ জন হিন্দু, ১৩৭ জন খ্রিস্টান এবং দুজন শিখ।

শুধু ২০২৪ সালেই ৮৩টি ঘটনা রিপোর্ট করা হয়। এর মধ্যে ৫২টি ঘটনায় হিন্দু এবং ৩১টি ঘটনায় খ্রিস্টান মেয়েরা ভুক্তভোগী ছিলেন।

Christian Solidarity Worldwide-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও জোরপূর্বক বিয়ের ৯৪টি ঘটনা নথিবদ্ধ হয়। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৩।

সংগঠনটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ঘটনাগুলোর ৭৬ শতাংশ ভুক্তভোগী ছিলেন হিন্দু এবং ২৪ শতাংশ খ্রিস্টান। ৭৯ শতাংশ ঘটনা সিন্ধু এবং ২০ শতাংশ পাঞ্জাবে রিপোর্ট করা হয়।

তবে সংগঠনটির সতর্কতা হলো, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না।

আইনের ভিন্নতা, বয়স নিয়ে বিরোধ

পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে বিয়ের ন্যূনতম বয়সের বিধান এক নয়। ফলে সংখ্যালঘু মেয়েদের বয়স নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সিন্ধুতে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। পাঞ্জাবের প্রচলিত কাঠামোতে ঐতিহাসিকভাবে মেয়েদের ন্যূনতম বয়স ১৬ এবং ছেলেদের ১৮ নির্ধারিত ছিল। তবে মেয়েদের সুরক্ষা বাড়াতে বয়স সংক্রান্ত আইন ও বিচারিক আলোচনা চলছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এর আগে সতর্ক করেছেন, সংখ্যালঘু মেয়েদের জোরপূর্বক বিয়ে ও ধর্মান্তরের ঘটনাকে কখনও কখনও আদালতে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

২০২৪ সালে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এমন একটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে ১৩ বছর বয়সী এক খ্রিস্টান কিশোরীর বয়স বিয়ের সনদে ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তাকে অপহরণ, ধর্মান্তর ও বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এ কারণে প্রশ্নটি শুধু বিয়ের নথি আছে কি না, তা নিয়ে নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একজন অপ্রাপ্তবয়স্কের আদৌ আইনগতভাবে সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা ছিল কি না এবং তার সিদ্ধান্তটি সত্যিই স্বাধীন ছিল কি না।

সিন্ধু ও পাঞ্জাবে বেশি ঘটনা

নথিবদ্ধ ঘটনাগুলোর বড় অংশ সিন্ধু ও পাঞ্জানে কেন্দ্রীভূত।

এই দুই প্রদেশে হিন্দু ও খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বসবাস করে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ও আর্থসামাজিক দুর্বলতাও পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pakistan’s Human Rights Commission দীর্ঘদিন ধরে পাঞ্জাব ও সিন্ধুতে হিন্দু ও খ্রিস্টান মেয়েদের জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ের বিষয়টি তুলে ধরছে।

সংস্থাটির ২০২৫ সালের মূল্যায়নে এসব ঘটনার ধারাবাহিকতাকে শিশুবিবাহবিরোধী আইন প্রয়োগের দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

HRCP-এর প্রতিবেদনে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড এবং ধর্মান্তর ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে নিয়ে চলমান উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।

ফলে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের কোনো মেয়ে কথিতভাবে অপহৃত হলে পরিবারকে একই সময়ে পুলিশ, আদালত, ধর্মীয় চাপ ও সামাজিক ভীতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের উদ্বেগ

৯ জুলাই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের গৃহীত প্রস্তাবে পাকিস্তানকে শিশুবিবাহবিরোধী জাতীয় কাঠামো কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়।

একই সঙ্গে অপহৃত বা জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত সংখ্যালঘু মেয়েদের পরিবারের অভিযোগ জানানোর জন্য জাতীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক বা জবরদস্তির অভিযোগ থাকা প্রতিটি ঘটনায় স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা এবং অপহৃত মেয়েদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফেরার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়।

এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৃহত্তর আলোচনার অংশ ছিল। সেখানে সংখ্যালঘু মেয়েদের ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিশু সুরক্ষা এবং জবাবদিহিতার বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরাও বলেছিলেন, দায়মুক্তির পরিবেশ অপহরণ ও বিয়ের মাধ্যমে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্ম পরিবর্তন অবশ্যই জবরদস্তিমুক্ত হতে হবে। একইভাবে, একটি শিশু পূর্ণ ও স্বাধীন সম্মতি দিতে না পারায় তার ওপর ভিত্তি করে বিয়েকেও স্বাধীন সম্মতির বিয়ে হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

ধর্মান্তর কি অপহরণের অভিযোগকে আড়াল করছে?

এসব ঘটনার সবচেয়ে জটিল প্রশ্নটি উঠে আসে কথিত অপহরণের পর।

কোনো মেয়ে আদালতে উপস্থিত হয়ে বলতে পারে যে সে ধর্মান্তরিত হয়েছে এবং বিয়ে করেছে। কিন্তু সে যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, পরিবার যদি অপহরণের অভিযোগ করে, ধর্মান্তরের পরপরই যদি বিয়ে হয়ে থাকে এবং বয়স নিয়ে বিরোধ থাকে, তাহলে তার বক্তব্য কোন পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

জাতিসংঘের অবস্থান হলো, শিশুদের চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে এবং ধর্ম পরিবর্তন অবশ্যই জবরদস্তিমুক্ত হতে হবে।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এমন ঘটনাও নথিবদ্ধ করেছে, যেখানে সংখ্যালঘু পরিবারগুলো অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও শিশুবিবের অভিযোগ কার্যকরভাবে তদন্ত করাতে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।

ফলে একটি জটিল আইনি ও সামাজিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। কথিত ধর্মান্তর অপহরণের মূল অভিযোগকে আড়াল করতে পারে এবং পরবর্তী বিয়ে মেয়েটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

সামনে যে প্রশ্ন

মারিয়া শাহবাজ ও আনিকা ইসহাকের ঘটনা আলাদা হলেও তাদের দুজনের ক্ষেত্রেই বয়স, ধর্ম, বিয়ে, অপহরণ এবং স্বাধীন সম্মতির প্রশ্ন একসঙ্গে সামনে এসেছে।

মারিয়ার মামলা বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আনিকা কথিতভাবে কয়েক মাস বন্দি থাকার পর নিজের বিয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করছেন।

উপলব্ধ তথ্য বলছে, সমস্যাটি শুধু এই দুই ঘটনা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। নথিবদ্ধ ভুক্তভোগীদের মধ্যে হিন্দু মেয়েদের সংখ্যা বেশি। খ্রিস্টান মেয়েরাও উল্লেখযোগ্যভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। অধিকাংশ নথিবদ্ধ ঘটনা সিন্ধু ও পাঞ্জাবে এবং অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক।

ফলে বিষয়টি এখন শুধু পৃথক ফৌজদারি মামলার প্রশ্ন নয়। ধর্মীয় পরিচয়, বয়স, বিয়ে এবং জবরদস্তির অভিযোগ যখন একই ঘটনায় মিলিত হয়, তখন পাকিস্তানের সংবিধানগত অধিকার, শিশু সুরক্ষা আইন এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সংখ্যালঘু মেয়েদের কতটা সুরক্ষা দিতে পারে, সেটিই সামনে আসে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের জুলাইয়ের প্রস্তাব এই প্রশ্নে আন্তর্জাতিক নজরদারিকে আরও জোরালো করেছে।

 

( সূত্র – European Times)