Skip to main content

Brick Lane News

লন্ডনে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে মুসলিমবিদ্বেষ: চার বছরে বৈষম্যের ঘটনা বেড়েছে ছয় গুণ

লন্ডনে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে মুসলিমবিদ্বেষ: চার বছরে বৈষম্যের ঘটনা বেড়েছে ছয় গুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রিকলেন নিউজ

লন্ডন: যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও বৈষম্যের ঘটনা এক চরম উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শহরটিতে মুসলিমবিদ্বেষ বা ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগ বেড়েছে প্রায় ছয় গুণ। চলতি বছরেও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে গভীর শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

পরিসংখ্যানের ভয়াবহ চিত্র যুক্তরাজ্যে মুসলিমবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণকারী শীর্ষ সংস্থা ‘টেল মামা’ (Tell MAMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় বিদ্বেষের এই বৃদ্ধি কোনো সাময়িক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ক্রমবর্ধমান প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।

  • ২০২১ সালে লন্ডনে মুসলিমবিদ্বেষের অভিযোগের সংখ্যা ছিল তিন শতাধিক।

  • ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯০৯টিতে, যা এখন পর্যন্ত এক বছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

  • চলতি বছরের (২০২৬) প্রথম ছয় মাসেই এই অভিযোগের সংখ্যা ১ হাজার ৩১-এ পৌঁছেছে।

সাউথপোর্ট ট্র্যাজেডি ও ভুল তথ্যের প্রভাব এই বিদ্বেষমূলক পরিস্থিতির সাম্প্রতিকতম অবনতি ঘটে ২০২৪ সালের আগস্টে। ওই সময় সাউথপোর্টে তিন শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনার পর যুক্তরাজ্যজুড়ে উগ্র ডানপন্থীদের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলাকারীর পরিচয় নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। প্রথমদিকে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো হামলাকারীকে ‘ইসলামপন্থী অভিবাসী’ হিসেবে আখ্যা দিলেও পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ওই তথ্যটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে ততক্ষণে এই ভুল তথ্যের জেরে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়।

লন্ডনে আতঙ্ক ও পাল্টা প্রতিরোধ দাঙ্গার সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল লন্ডনেও। ব্রেন্টফোর্ড, হ্যারো, নর্থ ফিঞ্চলি ও ওয়ালথামস্টোর মতো মুসলিম ও অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বড় ধরনের দাঙ্গার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল যে, মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অনেককে নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং স্থানীয়দের পাল্টা শান্তিপুর্ণ প্রতিরোধের কারণে লন্ডনে বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ঘটেনি।

উদ্বেগ ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান পরিস্থিতির এই ভয়াবহ অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ‘টেল মামা’র পরিচালক ইমান আত্তা। তিনি বলেন, “প্রতিটি অভিযোগের পেছনে একজন করে মানুষ রয়েছেন, যিনি শুধু নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নিজেকে নিজ শহরে অনিরাপদ মনে করেছেন।”

চার বছরের ব্যবধানে বার্ষিক তিন শতাধিক অভিযোগ থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই তা এক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি। এই বিদ্বেষমূলক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারাবাহিক, দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।