দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিতভাবে ভারত থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়। বন্দর দিয়ে খালাস হওয়া এই পণ্যগুলো বাংলাদেশি ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছানো হয়। তবে সম্প্রতি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানোর ফলে পরিবহন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে, যা সরাসরি পণ্য পরিবহনের ভাড়ায় প্রতিফলিত হচ্ছে।
সরকারের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে ট্রাক মালিকরা আগের ভাড়ায় পণ্য পরিবহন করাকে লোকসানি ব্যবসা হিসেবে দেখছেন। ফলে গন্তব্য ও দূরত্ব অনুযায়ী ট্রাকের ভাড়ায় ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত সমন্বয় বা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দর ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী জানান, জ্বালানি খরচের ঊর্ধ্বগতির ফলে পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। নতুন ভাড়ার মাধ্যমে কিছু সমন্বয় করা হলেও মালিকদের পক্ষে পরিচালন ব্যয় সামাল দেওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কেবল ভাড়া বৃদ্ধিই এর চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ বা পরিবহন খাতের সামগ্রিক ব্যয় কমানোর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
ট্রাক মালিক আনন্দ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে গাড়ি চালানোর ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যে ভাড়ায় আগে পণ্য পরিবহন করা হতো, এখন তা দিয়ে খরচই উঠছে না। একইভাবে বাসচালক আজিজার রহমান মন্তব্য করেছেন যে, তেলের দাম বাড়লে শুধু ট্রাক নয়, বরং যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনসহ সব ধরনের পরিবহন খাতেই ব্যয়ভার বেড়ে যায়, যার নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ে।
ট্রাকচালক রফিকুল ইসলামের ভাষ্যমতে, জ্বালানি তেলের পেছনেই এখন বড় অংকের টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে, যার সাথে যুক্ত হয়েছে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও চালক-শ্রমিকের মজুরি। বাড়তি ভাড়ার বিষয়টি তাই একটি বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছে।
এই বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিকারকদের ওপর। আমদানিকারক নুর-ইসলাম বলেন, পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত এই ব্যয় আমদানিকৃত পণ্যের চূড়ান্ত মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে পরিবহন খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত বাজারের দামের চাপ সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই বর্তায়।
বর্তমানে হিলি স্থলবন্দরের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি তেলের দাম যদি এই পর্যায়েই থাকে বা আরও বাড়ে, তবে পরিবহন ব্যয় সমন্বয় করা আরও জটিল হবে। এর ফলে স্থানীয় বাজারদরে অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ীরা তাই জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন যাতে পণ্য পরিবহনের খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে।
দেশের পরিবহন খাতের এই পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা একটি সংকটময় সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকরের পর থেকে এই বাড়তি ভাড়ার বিষয়টি বন্দরের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।