হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের গণপরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। বুধবার সকালে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ অবস্থায় আমরা বাধ্য হয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি।
আবু মঈন চৌধুরী সোহেল অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের ‘বিরতিহীন এক্সপ্রেস’ বাসের চালক ও শ্রমিকদের শেরপুরে আটক করে মারধর এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। বর্তমানেও তাদের তিনটি বাস মৌলভীবাজারে এসএমএস পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের কার্যালয়ের সামনে আটকে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও তারা সমঝোতা মানছেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, উভয় পক্ষের এই বিরোধ নিরসনে গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়েছিল। তৎকালীন হুইপ জি কে গউছ এমপিসহ পাঁচজন সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সেই বৈঠকে বিষয়টি সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়। গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জাতীয় সংসদের তৎকালীন হুইপ জি কে গউছ এমপির নেতৃত্বে পাঁচজন সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এক সমঝোতা বৈঠকে দুপক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিও করা হয়।
তবে সমঝোতার পরেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। গত ১১ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারে পৌঁছালে হবিগঞ্জের তিনটি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস আবারও আটক করা হয়। বারবার আইন ও সমঝোতা লঙ্ঘনের প্রতিবাদেই মূলত পরিবহন মালিকরা এই কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।