রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হ/ত্যা মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেছেন, বাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের চারজনকে মাত্র দুজনের পক্ষে হ/ত্যা করা সম্ভব নয়। তার ধারণা, হ/ত্যা/কা/ণ্ডের পেছনে আরও বড় কোনো শক্তি থাকতে পারে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে নগরীর মাছুয়া পাড়ার ওই বাড়িতে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের শুরুর আগে কালবেলা প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘সন্দেহটা ওই জায়গায় যে দুইটা লোকের পক্ষে এই হত্যাকাণ্ড করা সম্ভব নয়। চারটে দুইটা লোকে চারটে লোক মারবে এবং মারিয়ে তারা সুস্থভাবে থাকি ঘুমাবে, বাড়িতে বসি থাকবে। এটা কখনোই সম্ভব নয়।’
হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত উল্লেখ করে গোপীনাথ বলেন, ‘একটা মানুষ খুন করা চাট্টিখানি কথা নয়। এর পিছনে কোনো বড় শক্তি আছে অলক্ষ্যে, আড়ালে।’
তদন্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘লোকজন তো বলছে- বিদ্যুৎ আগে বন্ধ করে দিয়েছে। এখন কী যে হবে, যেটা হবে সেটা তো মেনে নিতে হবে। আমরা তো তদন্ত করার কেউ না। প্রশাসন একটার পর একটা যদি ব্যর্থ হয়ে যায় তো করার কী আছে?’
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে সন্দেহ রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে গোপীনাথ বলেন, ‘না সেটা আমার নাই। কারণ আমি তো কাউকে চিনি না। আমি তো দূরে থাকি। সংঘর্ষ বা কোনো ক্যাচালের কথাও শুনিনি। খুব ভালো মানুষ ছিল। মানুষ এত ভালো হয় না।’
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির উঠানে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় গীতা পাঠ করা হয়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের পাশে বসে কাঁদতে দেখা যায়।
এদিকে নিহতদের স্মরণে রংপুর জিলা স্কুলে প্রার্থনা ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ আয়োজন করেন।