Skip to main content

Brick Lane News

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে: ইয়াও ওয়েন

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে: ইয়াও ওয়েন

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আলোকপাত করেছেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর তিনি ‘অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় হাতে হাত রেখে, আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে জানান, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর অভিন্ন অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশ আজ বিশ্বস্ত প্রতিবেশী এবং অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, এ বছর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫১তম বার্ষিকী পালন করছে দুই দেশ। পাশাপাশি বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার ১০ বছর পূর্তি হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে চলতি বছর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সংস্কার ও উন্নয়নের যে নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তা দেশটির জনগণের দৃঢ়তা ও জাতীয় মর্যাদাবোধের বহিঃপ্রকাশ। এই অগ্রযাত্রার প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা ব্যক্ত করেন তিনি। বেইজিং বাংলাদেশের নতুন সরকারকে দেশ পরিচালনায় সমর্থন করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন সমর্থন অব্যাহত রাখবে, বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আরও বড় ভূমিকা পালনে সহযোগিতা করবে। গত তিন বছরে আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এই জাতির নেওয়া ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যক্ষ করেছি। বাংলাদেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার এই সময়ে আমার হৃদয় গভীর টান ও বিচ্ছেদ-বেদনায় ভারাক্রান্ত।

বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের দীর্ঘ তিন বছর নয় মাস বা প্রায় ১,৩০০ দিনের অভিজ্ঞতাকে কূটনৈতিক জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইয়াও ওয়েন। দায়িত্ব ছাড়ার প্রাক্কালে তিনি জানান, এই সময়টি তার কাছে অত্যন্ত অর্থবহ এবং পরিপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ঢাকার অলিগলি থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুরের মতো জনপদগুলোতে তিনি সরাসরি মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের আশাবাদ এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখার যে প্রবল শক্তি, তা তাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। রাষ্ট্রদূত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, তরুণরাই একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং তারাই ভবিষ্যতের কর্ণধার। বাংলাদেশের তরুণদের আশাবাদ ও দৃঢ়তা তার ওপর বিশেষভাবে গভীর ছাপ ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরের নির্মাণস্থলে কাজ করা কিংবা গ্রামীণ এলাকায় বসবাস- যেখানেই থাকুক না কেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও উন্নত জীবনের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন ধরে রেখেছে বাংলাদেশের তরুণরা।

কূটনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে ইয়াও ওয়েন বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যেভাবে স্থিতিশীলভাবে এগিয়েছে এবং জনগণের জন্য সুফল বয়ে এনেছে, তা দেখা একজন কূটনীতিক হিসেবে তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো তিনি সবসময় সযত্নে মনে রাখবেন। চীনের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে দেশটি নিজস্ব জাতীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিকায়নের পথে নিরন্তর এগিয়ে চলছে। পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার প্রসারের পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক উষ্ণ যোগাযোগ ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাবে। পারস্পরিক সম্মান ও আন্তরিকতার ভিত্তিতেই এ সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে শক্তিশালী গতি এনেছে।