জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় তিনি বেশ কৌতুকপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘ব্রেকফাস্ট খাইতে ইন্ডিয়া, লাঞ্চ করতে ইন্ডিয়া, ডিনার করতে ইন্ডিয়া—তাহলে নিজের খাবার কখন খাবেন?’ তার মতে, ভারতের বিষয়টি সবসময় মাথায় না রেখে নিজেদের দেশের স্বার্থের দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত প্রতিবেশী দেশ এবং তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, তবে সবসময় কেবল ভারতের চিন্তায় ডুবে থাকা সমীচীন নয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক যেকোনো স্তরে আলোচনার পথ খোলা রেখেছে বাংলাদেশ। তবে প্রধানমন্ত্রীর বহুপাক্ষিক সফরে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকায় সবার সাথে সাইডলাইন বৈঠক করা সবসময় সম্ভব হয় না। ভারতের সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিষয়ে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গত ১৫ বছর ধরে একটি স্বৈরাচারী, দুর্নীতিগ্রস্ত ও লুটেরা সরকারের সাথে গড়ে ওঠা অস্বস্তিকর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বর্তমান সরকার।
হুমায়ুন কবিরের ভাষ্যমতে, ভারতের সাথে বাংলাদেশের নতুন সম্পর্ক কোনো বহুপাক্ষিক ফোরামের পরিবর্তে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের নতুন যাত্রা দ্বিপাক্ষিক সফরের মাধ্যমেই শুরু হওয়া উত্তম। তবে তিনি এটিও পরিষ্কার করেছেন যে, বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানে অন্য কোনো দেশের সাথে বৈঠক করা হবে না—এমন কোনো অবস্থান সরকার নেয়নি। তার মন্তব্যটি মূলত ভারতের সাথে ভবিষ্যতের সম্পর্কের ধরণ এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণের প্রেক্ষাপটেই ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে সবসময় শুধু ভারতের কথা ভাবলে চলবে না, নিজেদের দেশের কথাও ভাবতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘যার সঙ্গে যখন দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিকভাবে কথা বলা দরকার, বাংলাদেশ অবশ্যই তা বলবে।