Skip to main content

Brick Lane News

তারেক রহমানের দিল্লি সফরকালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা

তারেক রহমানের দিল্লি সফরকালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে চুক্তিটি নবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আলোচনা শুরু করেছেন। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য ইতিমধ্যেই একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এই গ্রুপ তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর নবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে ঢাকার নীতিনির্ধারকদের মতে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তিটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এবং তখনই এ বিষয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া এতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গার পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর ওপর ১৯৭৫ সালে এই বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে, যার মধ্যে গঙ্গার পানি প্রবাহ ঋতুভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত প্রতি দশদিন অন্তর পানি বণ্টন করা হয়। চুক্তির শর্তানুসারে, ফারাক্কায় পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেকের কম হলে বাংলাদেশ ও ভারত সমান অনুপাতে পানি পাবে। প্রবাহ ৭০ থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে এবং অবশিষ্ট পানি ভারত পাবে। আবার প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পানি রেখে বাকিটা বাংলাদেশকে দেবে। এছাড়া পানির প্রবাহ ৫০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে গেলে দুই দেশের মধ্যে জরুরি বৈঠকের বিধান রাখা হয়েছে।

চুক্তিটির মেয়াদ ৩০ বছর নির্ধারণ করা হলেও প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এটি পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া চুক্তির প্রভাব মূল্যায়নের জন্য যেকোনো পক্ষ দুই বছর পর পর্যালোচনার দাবি জানাতে পারে। ফারাক্কা ফিডার ক্যানেল এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নেভিগেশন লক পয়েন্টে পানির প্রবাহ যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ করে একটি কমিটি। সেই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই দুই দেশের সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।