Brick Lane News

আইভী রহমানের মুক্তি নিশ্চয় ধান্ধা আছে !

আইভী রহমানের মুক্তি নিশ্চয় ধান্ধা আছে !

IMG 9471 আইভী রহমানের মুক্তি নিশ্চয় ধান্ধা আছে !

হরমুজ আলী – 

বিষয়টি সেনসিটিভ, তারপরও কথাতো বলতে হবে!আমার বন্ধু-তালিকায় যারা আছেন তাদের বেশিরভাগেরই মনে থাকার কথা যে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে খুবই ঠান্ডা মাথায় এদেশের মানুষকে একটা ম্যাসেজ দিয়েছিলেন – “I will make politics difficult for the politicians”. তিনি তার কথা রেখেছিলেন। এদেশের মানুষ তার সেই বহুল চর্চিত কথার ‘বাস্তবায়ন’ দেখেছে। একটা কথা এখানে খেয়াল করতে হবে যে ডিফিকাল্ট তিনি করেছিলেন ঠিকই, তবে মুক্তিযুদ্ধের-বাংলাদেশ এর পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলকে টুকরো-টুকরো করে আর PPR (political party revolution) এর মাধ্যমে ‘৭১ বিরোধীদের (নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল) রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে! শুধু সুযোগ কেনো বলছি, তখনকার বৈরী পরিবেশে (তাদের জন্যে) রাজনীতি করতে যা-যা লাগে, তার সবটারই তিনি যোগান (provide) দিয়েছিলেন। সেই জিয়াউর রহমান সাহেবের ‘করিৎকর্মা’ পুত্র যখন ক্ষমতায় তখন আওয়ামী লীগকে যে ‘রিফাইন’ করবার একটা উদ্যোগ নেয়া হবে, তাতে আমি একেবারেই আশ্চর্য হইনি! পাঠকের মনে হতে পারে যে ‘বাটপার’ ইউনুসের সময়ও তো আমরা এমন কথা শুনেছি বা কিছুটা নড়াচড়াও দেখেছি; আমি মনে করি সেটা ছিলো রিহার্সাল এবং বয়ান সৃষ্টির চেষ্টা, এর বাইরে কিছু করার ক্ষমতা তাদের ছিলোনা। এখন যেটা হচ্ছে, সেটাই আসল।

রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতির আন্দোলন করেছে আওয়ামী লীগ, চুয়ান্নতে মুসলিম লীগের কবর রচনা করেছে আওয়ামী লীগ, স্বাধিকার-স্বায়ত্তশাসনের লড়াই করেছে আওয়ামী লীগ, সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে আওয়ামী লীগ এবং এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে সর্বোচ্চ রক্ত ঝরিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই দল জন্মলগ্ন থেকেই রিফাইন্ড; না-হলে, এই ঐতিহাসিক কাজগুলো করা সম্ভব হতোনা। পচাত্তর পরবর্তীতে, গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলন, সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে মধ্যম আয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ কি-কি করেছে, আজকের Gen-Z রা নিশ্চয়ই তা ভুলে যায়নি। আবারও, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ রিফাইন্ড ছিলো বলেই এগুলো সম্ভব হয়েছে। এবং, গত পয়তাল্লিশ বছর এই দলের নেতৃত্বে আছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, তাঁর নেতৃত্বেই এই প্রায়-অসম্ভব কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে। দেশের মানুষের সম্মতি এবং সমর্থন না-থাকলে এটা সম্ভব হতোনা।

জাতি হিসেবে বাঙালি ‘শংকর ‘, এই বিষয়টি মাথায় নিয়েই আমাদেরকে এগুতে হবে, সুতরাং এখানে পীর-আউলিয়া যেমন আছেন, চোর-ছ্যাচ্চড়েরও দেখা পাওয়া যাবে! বাঙালি-জীবনে এটা সবসময়ই ছিলো এবং থাকবে, যদি-না সম্পুর্ণরূপে ডিএনএ পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু এটাতো সম্ভব না। আওয়ামী লীগ একটি গণসংগঠন, বাঙালিরাই এই সংগঠনের সদস্য। সুতরাং এখানে উৎকৃষ্টরা যেমন থাকবে, স্খলিতদের দেখাও পাওয়া যাবে, যদিও সংখ্যায় এরা নগন্য। সুতরাং দলকে স্খলনমুক্ত করার দায়িত্ব বঙ্গবন্ধু কন্যার, তিনি তা অতীতেও করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। এটার দোহাই দিয়ে যখন ‘রিফাইন’ কথাটাকে সামনে নিয়ে আসা হয়, তখনই জিয়াউর রহমানের চেহারা ভেসে ওঠে! বুঝতে বাকি থাকেনা যে ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি ডিফিকাল্ট’ করার পায়তারা হচ্ছে!

দেখুন, আওয়ামী লীগের ৭৭ বছর বয়সে পাকি-বাঙালি অনেকেই এই কাজটি করতে চেয়েছেন, তাদের কেউ-ই নাই, আওয়ামী লীগ বহাল তবিয়তে আছে। একটা রাজনৈতিক দল যখন আদর্শের সাথে কম্প্রোমাইজ করতে অস্বীকার করে, তখনই বিভিন্ন তকমায় সেটাকে ট্যাগ করে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়, এটা কোনো নতুন কিছু নয়, রাজনীতিতে এই চর্চাগুলো ছিলো এবং থাকবে। দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব হচ্ছে এই ‘ভাইরাস’ থেকে দূরে থাকা। যারা এটা করতে ফেইল করবেন, তারাই ছিটকে পড়ে যাবেন।

যে শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যাচেষ্টা করেও ভয় দেখানো যায়নি, তাঁকে সরাতে তো ‘অন্যভাবে’ চেষ্টা করতে হবে! এই অন্যভাবে চেষ্টা করার নামই ‘রিফাইন’! গত দুই বছর অমানুষিক নির্যাতন, জেল-জুলুম, হত্যা করেও তৃণমূলকে শেখ হাসিনা থেকে এক চুলও নড়ানো যায়নি, তারা এখন বুঝতে পেরেছে যে তা যাবেওনা, তাই শেষ চেষ্টা হিসেবে রিফাইন সামনে নিয়ে এসেছে! আওয়ামী লীগ রিফাইন্ড না-হলে গত দুই বছরে লাশের পর লাশ বেরিয়ে আসতো না কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে!

রিফাইন তো তাদের হওয়া দরকার যারা মুখে ‘স্বাধীনতার ঘোষকের’ দল দাবী করে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছে! রিফাইনতো তারা হবে যারা আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের নামে মহান জাতীয়সংসদে শোক প্রস্তাব পাশ করে আরেক মুক্তিযোদ্ধার পৌরহিত্যে! বহুল চর্চিত হাওয়া ভবন আর ২১শে আগষ্টের নির্লজ্জ হত্যাকাণ্ডের কথা বলে লেখার কলেবর বৃদ্ধি করতে চাইনা।

সাবের হোসেন চৌধুরী আর ড: শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটকে রাখার হিম্মত ‘বাটপার’ ইউনুস কিংবা আপনাদের ছিলোনা বলে তাঁরা বাইরে আছেন। পোড়খাওয়া রাজনীতিক সেলিনা হায়াত আইভী বারবার জামিন পেলেও তাঁকে ছাড়ার সাহস আপনাদের হয়নি, শেষপর্যন্ত ছেড়েছেন কিন্তু বাড়ির চারপাশে ক্যামেরা ফিট করে গৃহবন্দী করে রেখেছেন! নিশ্চয়ই কোনো ধান্দা আছে, তবে আওয়ামী লীগের সাথে ধান্দা-ফান্দা করে কূলে তরী ভিড়বেনা! দীর্ঘ ৭৭ বছরের ইতিহাসটা একটু দেখে নিতে পারেন! এই যে আজ ৭ই জুন, ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস, মনু মিয়া সহ ১১ জন শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিলো আয়ুবশাহী; এটাও আওয়ামী লীগেরই রক্তঝরা ইতিহাস।

লেখক- রাজনীতিবিদ ,কবি ।