ব্রিকলেন নিউজ, লন্ডন: বাংলাদেশে সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীর ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশসহ মোট জনগোষ্ঠীর ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ অনলাইন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এর প্রভাবে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণী ও শিক্ষার্থীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে এক গবেষণার তথ্য উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং অ্যান্ড অ্যাড্রেসিং টেকনোলজি ফ্যাসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের ওপর পরিচালিত জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম এবং ডিজিটাল রাইটসের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী। বক্তব্য দেন প্রধান গবেষক সায়েমা চৌধুরী, গবেষক ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম এবং উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপপুলিশ কমিশনার লিজা বেগম পিএসসি।
গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করেন ডিজিটাল রাইটসের হেড অব রিসার্চ আবদুল্লাহ তিতির এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান।
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তাঁরা জানান, নারীরা অনলাইনে হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক শোষণ, অর্থনৈতিক প্রতারণা, যৌন ও ছবি-ভিত্তিক নির্যাতন, ভুয়া আইডি, সাইবার স্টকিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারের মতো নানা ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, গবেষণাটি সামগ্রিক পরিসংখ্যান বা সহিংসতার প্রকোপ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে করা হয়নি। বরং প্রযুক্তি-সহায়ক সহিংসতার কাঠামোগত দুর্বলতা ও সংকট চিহ্নিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের করণীয়ও গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, গবেষণার সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত সহিংসতাকে বর্তমান বাস্তবতার আলোকে মোকাবিলা করতে হবে। জেন্ডার বৈষম্য দূর না হলে সাইবার অপরাধের নতুন নতুন রূপের বিস্তার ঠেকানো কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে সীমা মোসলেম বলেন, ৫৬ বছরের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দেখেছে, নারীর অগ্রগতির পথে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা অন্যতম বড় বাধা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ডিজিটাল ডায়েট ও ডিসমিস ল্যাবের সহযোগিতায় গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে।
মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নারীদের ওপর ডিজিটাল সহিংসতার ব্যাপ্তি ও নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে অল্প সময়ে ভুয়া ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে নারীরা মানসিক ও শারীরিক ঝুঁকির পাশাপাশি গভীর মানসিক চাপে পড়ছেন। এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কার্যকর কৌশল নির্ধারণ জরুরি।
তথ্য উপস্থাপন শেষে মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিক, আইনজীবী, নারী অধিকারকর্মী, উন্নয়নকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।