ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আগামী শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় শক্তিশালী মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শক্তির বিচারে বেশ এগিয়ে রয়েছে মালয়েশিয়া। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের সবশেষ অবস্থানে ৪৫ ধাপের ব্যবধানই সেটি স্পষ্ট করে দেয়, যেখানে মালয়েশিয়ার অবস্থান ১৩৬তম এবং বাংলাদেশ রয়েছে ১৮১তম স্থানে।
ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের কোচ থমাস ডুলি মাঠের কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সমর্থকদের বাস্তববাদী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, এই টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য কেবল তাৎক্ষণিক ফল অর্জন নয়, বরং আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে দলকে সেরা রূপে প্রস্তুত করা। ডুলির মতে, সাফের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা যাচাইয়ের এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সুযোগ।
সংবাদ সম্মেলনে থমাস ডুলি বলেন, “আমরা এই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার ইচ্ছা আমাদের সবসময়ই ছিল। মাঠে নেমে প্রত্যেকেই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে আমাদের বাস্তবতাকে ভুলে গেলে চলবে না। অনেকে হয়তো ভাবছেন আমরা মাঠে নেমেই সবাইকে হারিয়ে দেব, কিন্তু কাজটা অনেক কঠিন। র্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া আমাদের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে, যা একটি বিশাল ব্যবধান।”
প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা বিবেচনা করে বাংলাদেশ কোচ বলেন, “মালয়েশিয়া অবশ্যই আমাদের চেয়ে ভালো দল এবং তাদের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা যদি ১-০ ব্যবধানেও হারি কিংবা ম্যাচটি ড্র করতে পারি, তবে সেটিই হবে আমাদের জন্য সাফল্য। সুযোগ তৈরি করে ড্র করতে পারলে বা জিততে পারলে তা দারুণ ব্যাপার হবে। তবে সবকিছুর আগে আমাদের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।”
এই লড়াইয়ের জন্য উভয় দলই ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে। কোচ তান চেং হোর অধীনে মালয়েশিয়া দল বেশ কিছু নতুন ন্যাচারালাইজড ও হেরিটেজ খেলোয়াড় যুক্ত করে শক্তিশালী আক্রমণভাগ নিয়ে মাঠে নামছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ স্কোয়াডেও বেশ কয়েকজন নতুন মুখ জায়গা পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ফরোয়ার্ড ফারহান আলী ওয়াহিদ, সেন্টারব্যাক জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ এবং উইঙ্গার শুকি ইতোফুসা। ফলের চেয়ে পারফরম্যান্সের উন্নতিকেই ডুলি এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে, ব্যবধানটা মাঠে কতটা থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি অবশ্য প্রত্যাশার চাপ বাড়াতে চান না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা সব সময়ই আরো ভালো দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে চেয়েছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডুলির বার্তাটা পরিষ্কার— স্বপ্ন থাকবে, তবে বাস্তবতাও মাথায় রাখতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি জানি, বাংলাদেশে আমাদের অনেক সমর্থক রয়েছেন, যারা ভাবেন, আমরা এখানে এসে সবাইকে হারিয়ে দেব।