Skip to main content

Brick Lane News

মার্কিন নাগরিকেরা জীবনসঙ্গীর মৃত্যু হলেও পেতে পারেন গ্রিন কার্ড: জেনে নিন শর্ত ও আবেদন প্রক্রিয়া

মার্কিন নাগরিকেরা জীবনসঙ্গীর মৃত্যু হলেও পেতে পারেন গ্রিন কার্ড: জেনে নিন শর্ত ও আবেদন প্রক্রিয়া

ব্রিকলেন নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট :

মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু হলেও জীবিত জীবনসঙ্গী চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। সাধারণ পারিবারিক ভিসার বদলে এ ক্ষেত্রে বিশেষ একটি অভিবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (USCIS) নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তি নিজেই ‘ফর্ম আই-৩৬০’ (Form I-360) জমা দিয়ে এই সুবিধা নিতে পারেন।

ভুল ধারণা: ২ বছরের বৈবাহিক সম্পর্কের বাধ্যবাধকতা নেই

অনেকেই মনে করেন, এই সুবিধা পেতে হলে মার্কিন নাগরিকের সাথে অন্তত দুই বছর বিবাহিত থাকতে হবে। তবে ২০০৯ সালের সংশোধিত আইন অনুযায়ী, বিধবা বা বিপত্নীকদের জন্য দুই বছরের এই বাধ্যবাধকতা আর নেই। অর্থাৎ, বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলেও আবেদন করা যাবে। তবে বিয়েটি অবশ্যই আইনিভাবে বৈধ হতে হবে।

গ্রিন কার্ড পাওয়ার মূল শর্তসমূহ

এই বিশেষ সুবিধায় গ্রিন কার্ড পেতে হলে আবেদনকারীকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে:

  • নাগরিকত্ব ও বৈধ বিয়ে: মৃত্যুর সময় মৃত জীবনসঙ্গীকে অবশ্যই মার্কিন নাগরিক হতে হবে এবং তাদের মধ্যে বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক থাকতে হবে।

  • পুনর্বিবাহে নিষেধাজ্ঞা: আবেদন করার আগে আবেদনকারী যদি অন্য কাউকে বিয়ে করেন, তবে তিনি এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।

  • আবেদনের সময়সীমা: এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মার্কিন নাগরিক জীবনসঙ্গীর মৃত্যুর তারিখ থেকে ঠিক দুই বছরের মধ্যে ফর্ম আই-৩৬০ জমা দিতে হবে।

আবেদনের প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনের সাথে সাধারণত যে প্রমাণগুলো জমা দিতে হয়:

  • বৈধ বিবাহের প্রমাণপত্র (Marriage Certificate)।

  • মৃত জীবনসঙ্গীর মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ।

  • মৃত ব্যক্তির মৃত্যুসনদ (Death Certificate)।

  • আগে কোনো বিয়ে থাকলে তা আইনগতভাবে বিচ্ছেদের প্রমাণ।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  • বিচারাধীন আবেদন: মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকাকালে যদি বিদেশি জীবনসঙ্গীর জন্য ‘ফর্ম আই-১৩০’ জমা দিয়ে থাকেন, তবে মৃত্যুর পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘আই-৩৬০’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

  • আবেদনকারীর অবস্থান: আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলেও এই প্রক্রিয়ায় কনস্যুলার প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসা পেতে পারেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকলে ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিয়ে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে পারবেন।

  • সন্তানদের সুযোগ: নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে যোগ্য আবেদনকারীর সন্তানরাও এই অভিবাসন সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।

সতর্কতা: এই বিশেষ ব্যবস্থায় আবেদন করার সুযোগ থাকা মানেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত নয়। ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর অতীত রেকর্ড, অভিবাসন ইতিহাস ও অন্যান্য বিষয়গুলো কঠোরভাবে যাচাই করে। তাই সময় নষ্ট না করে দ্রুত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।