Skip to main content

Brick Lane News

আওয়ামী লীগ আমলে বাপেক্সের কূপ খনন নিয়ে আশরাফ কায়সারের দাবি ‘মিথ্যা’:  ফ্যাক্টচেক জোনের প্রতিবেদন

আওয়ামী লীগ আমলে বাপেক্সের কূপ খনন নিয়ে আশরাফ কায়সারের দাবি ‘মিথ্যা’: ফ্যাক্টচেক জোনের প্রতিবেদন

বিশেষ প্রতিবেদক, ব্রিকলেন নিউজ, ঢাকা:
বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে (BAPEX) মাত্র আটটির বেশি কূপ খনন করতে দেওয়া হয়নি, সম্প্রতি এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আলোচনা ফোরামে ছড়িয়ে পড়ে। তবে জনপ্রিয় তথ্য-যাচাইকারী ওয়েবসাইট ‘ফ্যাক্ট চেক জোন’ ( Fact Check Zone )-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে যে, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আশরাফ কায়সারের করা এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
দাবির প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গ্যাস উত্তোলন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক চলমান। দেশীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রায়শই প্রশ্ন ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় আশরাফ কায়সার দাবি করেন, বিগত ১৫ বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল এবং এই দীর্ঘ সময়ে তাদেরকে আটটির বেশি কূপ খননের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমন দাবির পর দেশের জ্বালানি নীতি ও বিদেশি কোম্পানিগুলোর প্রতি সরকারের নির্ভরতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
ফ্যাক্ট চেক জোনের অনুসন্ধান ও প্রকৃত সত্য
তবে ‘ফ্যাক্ট চেক জোন’-এর বিস্তারিত অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাপেক্সকে মাত্র আটটি কূপ খননের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে দাবিটি করা হয়েছে, তা তথ্যগতভাবে সঠিক নয়। প্রাপ্ত তথ্যাবলি ও বাপেক্সের নিজস্ব নথিপত্রের বরাতে জানা যায়, এই নির্দিষ্ট সময়সীমায় বাপেক্স আটটির চেয়ে অনেক বেশি অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার কূপ খনন করেছে। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানটিকে নিষ্ক্রিয় করে রাখার যে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানটি জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়েছে, তা বস্তুনিষ্ঠ নয়।
ব্রিকলেন নিউজ -এর বিশ্লেষণ: জ্বালানি খাতে তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা 
জ্বালানি খাত যেকোনো দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই খাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও স্বাধীনতা নিয়ে সাধারণ মানুষের আবেগ ও সংবেদনশীলতা কাজ করে। ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর পরিসংখ্যান জনমনে সরকারের নীতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। ‘ফ্যাক্ট চেক জোন’-এর এই প্রতিবেদনটি প্রমাণ করে যে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে যেকোনো মন্তব্য বা দাবি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানগত যথার্থতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।