Skip to main content

Brick Lane News

অর্থনীতির ভঙ্গুর দশা: ৯৫ কারখানা বন্ধ, কাজ হারিয়েছেন ৬২ হাজার শ্রমিক

অর্থনীতির ভঙ্গুর দশা: ৯৫ কারখানা বন্ধ, কাজ হারিয়েছেন ৬২ হাজার শ্রমিক

ব্রিকলেন নিউজ, ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২৬:
বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্রে এক গভীর বৈপরীত্য ও স্থবিরতা ফুটে উঠেছে। একদিকে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের মতো সূচকে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও, উৎপাদন খাত ও কর্মসংস্থানে নেমে এসেছে বড় ধরনের ধস।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর সর্বশেষ অর্থনৈতিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি শিল্প-কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
শিল্প ও কর্মসংস্থানে গভীর সংকট:
জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতিকে ‘শঙ্কাজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি বর্তমানে নেতিবাচক অবস্থায় চলে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯৫টি কারখানা বন্ধ হওয়ায় ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, যা দেশের বর্তমান বেসরকারি বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাতের স্থবিরতার একটি স্পষ্ট চিত্র।
সামষ্টিক অর্থনীতির মিশ্র চিত্র: স্বাস্থ্য নাকি রক্তশূন্যতা?
সিপিডির তথ্যমতে, দেশের অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে প্রবাসী আয় ও রিজার্ভসহ ১২টি খাতে অগ্রগতি হলেও মূল্যস্ফীতি ও মাথাপিছু ঋণসহ ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই অবনতি ঘটেছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি মূলধনি যন্ত্রপাতির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার হার এবং নিট বিদেশি বিনিয়োগও কমেছে।
অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের বিশ্লেষণে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তাঁর মতে, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ বাড়াটা অর্থনীতির সুস্থতার লক্ষণ নাকি ‘রক্তশূন্যতার’ লক্ষণ, তা ভেবে দেখার বিষয়। মূলত দেশে নতুন বিনিয়োগ না হওয়া এবং পুঁজিপণ্য আমদানি কমে যাওয়ার কারণেই রিজার্ভ বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন।
কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও সুশাসনের ঘাটতি
নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি—যেমন টাকার সংকট, ব্যাংকিং খাতের বেহাল দশা, খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচার মোকাবিলায় আশানুরূপ গতি দেখা যাচ্ছে না।
মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় পদায়ন, জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরও মব ভায়োলেন্স অব্যাহত থাকা এবং নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো (মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নিয়ে গঠিত) কে ‘আড়াই-তলা সরকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সিপিডি মূলত প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার দিকেই ইঙ্গিত করেছে।
বিগত ছয় মাসে অর্থনীতির চাকা সচল করার ক্ষেত্রে সরকারের দৃশ্যমান কোনো শক্তিশালী পদক্ষেপ এখনো অনুপস্থিত। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রায় ৪২ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। কিন্তু একদিকে যখন একের পর এক কারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং বিনিয়োগ কমছে, তখন এত বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অর্থনীতিবিদদের কাছে বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।