Skip to main content

Brick Lane News

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, পদ খোয়ালেন জামায়াত নেতা

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, পদ খোয়ালেন জামায়াত নেতা

বিশেষ প্রতিবেদক, ব্রিকলেন নিউজ,  ফরিদপুর:

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে প/র/কী/য়া ও অ/নৈ/তি/ক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ইনামুল মোল্লা (২৬) বোয়ালমারী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধ ভঙ্গের এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার কুশডাঙ্গা গ্রামের মো. আকরাম মোল্যার ছেলে ইনামুল মোল্লার সঙ্গে একই গ্রামের কুটিপাড়া এলাকার এক নারীর দীর্ঘদিনের অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল। ওই নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কর্মরত। সম্প্রতি এই সম্পর্কের বিষয়টি উভয় পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও লোকমুখে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃত্ব দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বোয়ালমারী পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৈয়দ সাজ্জাদ আলী ইনামুল মোল্লাকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।

কর্মস্থলেও প্রবাসীর অভিযোগ

ইনামুল মোল্লা রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে বোয়ালমারী বাজারের ‘মোল্লা ডাক্তার কে হালিম হাসপাতালে’ অভ্যর্থনাকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের ম্যানেজার রেজাউল করিম বলেন,

“কয়েক দিন আগে ওই নারীর স্বামী বিদেশ থেকে আমাকে ফোন করে ইনামুলের সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্কের বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইনামুলের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও তিনি জানতে চেয়েছেন।”

এদিকে, অভিযোগ ওঠার পর থেকেই অভিযুক্ত ইনামুল মোল্লা গা ঢাকা দিয়েছেন। তার বক্তব্য জানার জন্য দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ , রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাদের ব্যক্তিগত নৈতিক স্খলন দলের সার্বিক ভাবমূর্তিতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বোয়ালমারীর এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সামাজিক অভিযোগ ওঠার পর রাজনৈতিক দলগুলো এখন নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তবে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করাটাই এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য মূল বিষয়।