Skip to main content

Brick Lane News

লন্ডনে ট্রেন ধরতে তাড়াহুড়ো: দুর্ঘটনা বেড়েছে ৪৩ শতাংশ, যাত্রীদের সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ

লন্ডনে ট্রেন ধরতে তাড়াহুড়ো: দুর্ঘটনা বেড়েছে ৪৩ শতাংশ, যাত্রীদের সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রিকলেন নিউজ, লন্ডন:

লন্ডন: গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়াহুড়ো বা কয়েক মিনিট সময় বাঁচানোর চেষ্টা কখনো কখনো ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সম্প্রতি ট্রেনে ওঠার সময় প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝের ফাঁকে যাত্রীদের পড়ে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গ্যাটউইক ও লুটন বিমানবন্দরগামী রেলযাত্রীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে গ্রেটার থেমসলিংক রেলওয়ে।

উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান: বাড়ছে দুর্ঘটনা গ্রেটার থেমসলিংক রেলওয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৩ জন যাত্রী ট্রেনে ওঠার সময় ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের মাঝের ফাঁকা অংশে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ ধরনের দুর্ঘটনার হার প্রায় ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব দুর্ঘটনার প্রায় প্রতিটিই প্রতিরোধযোগ্য ছিল। ট্রেন ধরতে প্ল্যাটফর্মে দৌড়ানো, স্বয়ংক্রিয় দরজা বন্ধ হওয়ার শেষ মুহূর্তে জোর করে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করা এবং তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ভারসাম্য হারানোই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

কর্তৃপক্ষের বার্তা: ‘সময় নিয়ে চলুন, নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন’ গ্রেটার থেমসলিংক রেলওয়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক হান্না লিন্ডসে যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে স্টেশনে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কয়েক মিনিট বাঁচাতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। যাত্রীদের উচিত ভ্রমণের আগে সময়সূচি যাচাই করা এবং স্টেশনে পৌঁছানোর পর তাড়াহুড়া না করা।”

লাগেজ ও চলন্ত সিঁড়ি ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা বিশেষ করে ভারী লাগেজ, স্যুটকেস বা শিশুর স্ট্রলার (গাড়ি) নিয়ে চলন্ত সিঁড়ি (এসকেলেটর) ব্যবহারে যাত্রীদের নিরুৎসাহিত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। চলন্ত সিঁড়িতে ভারী জিনিস নিয়ে ভারসাম্য হারালে সেটি পিছলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট যাত্রী তো বটেই, আশপাশের অন্য যাত্রীদেরও মারাত্মক আহত করতে পারে। এ কারণে এসব ক্ষেত্রে চলন্ত সিঁড়ির পরিবর্তে লিফট ব্যবহারের জোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন ভিড় ও নতুন যাত্রীদের জন্য চ্যালেঞ্জ আগস্ট মাস সাধারণত গ্যাটউইক ও লুটন বিমানবন্দরে যাত্রীদের চরম ব্যস্ততার সময়। গ্রীষ্মের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ এই রুটে যাতায়াত করেন। গ্যাটউইক এক্সপ্রেস, সাউদার্ন এবং থেমসলিংক রেল পরিষেবা পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ সময় অনেক নতুন যাত্রী ট্রেন ব্যবহার করেন, যারা স্টেশনগুলোর কাঠামোর সঙ্গে পরিচিত নন। ফলে নতুন ও অনভিজ্ঞ যাত্রীদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।

সচেতনতামূলক প্রচারণায় নতুন উদ্যোগ দুর্ঘটনা রোধে যাত্রীদের সচেতন করতে বিশেষ নিরাপত্তা প্রচারণা শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই প্রচারণায় যুক্ত করা হয়েছে জনপ্রিয় ব্রিটিশ কৌতুকশিল্পী ও অভিনেত্রী ডায়ান মরগানকে। প্রচারণামূলক ভিডিওর মাধ্যমে স্টেশনে চলাচলের সময় ছোট ছোট সতর্কতা অবলম্বনের কৌশল তুলে ধরা হচ্ছে।

যদিও সামগ্রিকভাবে পুরো নেটওয়ার্কে হোঁচট খেয়ে বা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা গত বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ কমেছে, তবে ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের মাঝের ফাঁকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা বেড়েই চলেছে। রেলওয়ের গ্রাহকসেবা পরিচালক জেনি সন্ডার্স জানান, দরজা বন্ধ হওয়ার সময় জোর করে ট্রেনে ওঠার প্রবণতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে, কারণ এটি সম্পূর্ণ পরিহারযোগ্য।

সারসংক্ষেপ রেল কর্তৃপক্ষের মূল বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—ট্রেন ধরতে দৌড়াবেন না, বন্ধ হতে চলা দরজায় বাধা দেবেন না এবং ভারী লাগেজ নিয়ে লিফট ব্যবহার করুন। গ্রীষ্মের এই ব্যস্ত সময়ে কয়েক মিনিট সময় বাঁচানোর চেয়ে নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই সবচেয়ে জরুরি।