Skip to main content

Brick Lane News

জুলাই আন্দোলনে স্নাইপার কি ব্যবহার করেছিল পুলিশ? ৭.৬২ মিমি রাইফেল নিয়ে তথ্যের সত্যানুসন্ধান

জুলাই আন্দোলনে স্নাইপার কি ব্যবহার করেছিল পুলিশ? ৭.৬২ মিমি রাইফেল নিয়ে তথ্যের সত্যানুসন্ধান

ব্রিকলেন নিউজ, প্রতিবেদক, ঢাকা:

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণআন্দোলন এবং তৎকালীন সহিংস পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একাধিক দাবি ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান ও আলোচিত বিষয় ছিল—আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ দূরপাল্লার ‘স্নাইপার রাইফেল’ ব্যবহার করে গুলি চালিয়েছে কি না। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ‘ফ্যাক্ট চেক জোন’ (Fact Check Zone)-এর এক বিশদ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, বহুল প্রচারিত এই দাবিটির পেছনে ব্যবহৃত নথিপত্র এবং তথ্যের ব্যবহারে বড় ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে।

৭.৬২ মিমি স্নাইপার বনাম ৭.৬২ মিমি চায়নিজ রাইফেল: মূল পার্থক্য

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের নির্দিষ্ট কিছু অপারেশনে ৭.৬২×৩৯ মিমি ক্যালিবারের অস্ত্র ব্যবহারে অনুমতি বা নির্দেশনা সম্পর্কিত যেসব আদেশনামা বা ছবি ইন্টারনেটে ছড়ায়, সেটিকে অনেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘স্নাইপার অস্ত্র’ বলে ভুল ব্যাখ্যা করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ও সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়:

  • চায়নিজ টাইপ-৫৬ (Type-56) বা অ্যাসল্ট রাইফেল: বাংলাদেশ পুলিশ ও সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণ নিরাপত্তা এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ৭.৬২×৩৯ মিমি ক্যালিবারের চায়নিজ টাইপ-৫৬ অ্যাসল্ট বা স্ট্যান্ডার্ড সার্ভিস রাইফেল ব্যবহার করে থাকে। এটি দূরপাল্লার বা বিশেষায়িত স্নাইপার অস্ত্র নয়।

  • স্নাইপার রাইফেল: স্নাইপার রাইফেলে সাধারণত ভিন্ন ক্যালিবার (যেমন- ৭.৬২×৫১ মিমি ন্যাটো) এবং টেলিস্কোপিক সাইট বা অপটিক্যাল ভিউ ব্যবহার করা হয়, যা সুনির্দিষ্টভাবে দূরপাল্লার লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম।

অতএব, ৭.৬২ মিমি ক্যালিবারের সাধারণ সার্ভিস অস্ত্র ব্যবহারের তথ্যকে ‘স্নাইপার ব্যবহার’ হিসেবে উপস্থাপন করা সাময়িক বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

নথিপত্র ও ভাইরাল ছবির ব্যবচ্ছেদ

আন্দোলন চলাকালীন ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন সার্কুলার এবং কর্মকর্তাদের নির্দেশনার কপি যাচাই করে দেখা যায়, পুলিশ বাহিনীকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা নির্দিষ্ট ক্যালিবারের অস্ত্র প্রস্তুত রাখার যে প্রশাসনিক চিঠি জারি করা হয়েছিল, সেখানে মূলত নিয়মিত টহল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবহৃত ৭.৬২ মিমি অ্যাসল্ট রাইফেলের কথাই উল্লেখ ছিল।

এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে স্নাইপারের পোশাকে বা টেলিস্কোপযুক্ত দূরপাল্লার অস্ত্র নিয়ে অবস্থানের যেসব ছবি বা ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল অন্য কোনো স্থান বা ভিন্ন ঘটনার, অথবা পুলিশ ব্যতিরেকে অন্য কোনো বিশেষায়িত বাহিনীর অতি সীমিত দূরবর্তী নজরদারি দৃশ্য—যা ঢালাওভাবে পুলিশের নিয়মিত স্নাইপার মোতায়েন প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ: সামরিক ও আইন বিশেষজ্ঞেরা জানান, ক্যালিবারের মাপ (৭.৬২ মিমি) এক হলেই একটি অস্ত্রকে ‘স্নাইপার’ বলা যায় না। অস্ত্রের গঠন, ব্যারেলের দৈর্ঘ্য, ফায়ারিং মেকানিজম এবং অপটিক্যাল ডিভাইসের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে সেটি স্ট্যান্ডার্ড সার্ভিস অ্যাসল্ট নাকি ডেডিকেটেড স্নাইপার রাইফেল।

সার্বিক নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ

জুলাই আন্দোলনে প্রাণহানি এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনাগুলো নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক নিরপেক্ষ তদন্ত চলমান রয়েছে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশ যেমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে, তেমনি বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুল পরিভাষার ব্যবহার এড়ানোও ঘটনার সঠিক মূল্যায়নে অত্যন্ত জরুরি।

ফ্যাক্ট চেক জোনের তথ্য অনুসন্ধানে এটি পরিষ্কার যে, জুলাই আন্দোলনে পুলিশের ৭.৬২ মিমি রাইফেল ব্যবহারের নথি থাকলেও, সেটিকে ডেডিকেটেড ‘স্নাইপার রাইফেল’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার দাবিটি প্রযুক্তিগত ও তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।