Skip to main content

Brick Lane News

যুক্তরাজ্যে ধর্ষণের দায়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মনোয়ার হোসেনের ৭ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যে ধর্ষণের দায়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মনোয়ার হোসেনের ৭ বছরের কারাদণ্ড

দীর্ঘ ৬ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায়; আদালতের পক্ষ থেকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা জারি

ব্রিকলেন নিউজ প্রতিবেদক,  লন্ডন, ২৭ জুলাই ২০২৬: যুক্তরাজ্যের নরউইচ শহরে এক নারীকে ধর্ষণের দায়ে মনোয়ার হোসেন (২৯) নামে এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি যুবককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নরউইচ ক্রাউন কোর্ট। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তার ওপর একটি অনির্দিষ্টকালের (আজীবন) জন্য ‘রিস্ট্রেইনিং অর্ডার’ বা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

ঘটনার বিবরণ মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৩ মার্চ ভুক্তভোগী ওই নারী নরউইচে বন্ধুদের সঙ্গে রাতের খাবার শেষে একটি হাউজ পার্টিতে যান। সেখানে তিনি অসুস্থ বোধ করলে তার বন্ধুরা তার জন্য একটি ট্যাক্সি ডাকেন। সে সময় ওই পার্টিতে থাকা মনোয়ার হোসেন (যিনি ‘রাক’ নামেও পরিচিত) ওই নারীর সঙ্গে একই ট্যাক্সিতে বাড়ি ফেরার প্রস্তাব দেন।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ভুক্তভোগী নারী আবিষ্কার করেন যে, মনোয়ার হোসেন তাকে ধর্ষণ করছেন। পরবর্তীতে এই ঘটনায় নরফোক পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে মনোয়ারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়।

বিচার ও রায় অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালের এপ্রিলে নরউইচ ক্রাউন কোর্টে অনুষ্ঠিত বিচারে জুরি বোর্ড তাকে দুটি ধর্ষণ, একটি ধর্ষণের চেষ্টা এবং একটি যৌন নিপীড়নের (অ্যাসাল্ট বাই পেনিট্রেশন) অভিযোগে সর্বসম্মতভাবে দোষী সাব্যস্ত করে। যার প্রেক্ষিতে আজ আদালত এই সাজা ঘোষণা করেন।

আদালতে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি ও প্রতিক্রিয়া আদালতে পাঠ করা এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগী নারী জানান, এই জঘন্য হামলা তার জীবনে মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ঘটনার পর থেকে তিনি তীব্র উদ্বেগ (Anxiety) এবং অনিদ্রায় ভুগেছেন। বন্ধুদের একটি ঘনিষ্ঠ দল পাশে থাকলেও, নতুন কোনো মানুষের ওপর বিশ্বাস স্থাপন বা সম্পর্ক গড়ার ক্ষমতা তার চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে।

আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কঠিন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত গর্বিত যে আদালতে দাঁড়িয়ে আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিবরণ দিতে পেরেছি। অবশেষে আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য রায় ঘোষণার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিটেকটিভ কনস্টেবল ম্যাথিউ হাবার্ড ভুক্তভোগী নারীর সাহসিকতার প্রশংসা করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এই দীর্ঘ ও জটিল তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়ায় ওই নারী যেভাবে ধৈর্য ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, তা অতুলনীয়। তার দেওয়া অকাট্য সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই আজ অপরাধী মনোয়ারকে কারাগারের পেছনে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।”