Skip to main content

Brick Lane News

একাত্তরের ‘২০০ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা’: মারদিয়া মমতাজের দাবির সত্যতা কতটুকু?

একাত্তরের ‘২০০ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা’: মারদিয়া মমতাজের দাবির সত্যতা কতটুকু?

নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্রিকলেন নিউজ

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা ও অপপ্রচার: একটি ফ্যাক্ট-চেক বিশ্লেষণ

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি মারদিয়া মমতাজের একটি বক্তব্য ঘিরে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, “৭১-এর পর ২০০ জনের মতো যুদ্ধাপরাধীর একটি তালিকা করা হয়েছিল, সেখানে কয়জন জামায়াতের নেতা ছিল?” তার এই দাবির প্রেক্ষিতে ‘ফ্যাক্ট চেক জোন’ একটি বিস্তারিত অনুসন্ধান চালিয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মারদিয়া মমতাজের এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ঐতিহাসিক তথ্যের বিকৃতি।

তালিকার বাস্তবতা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

‘ফ্যাক্ট চেক জোন’-এর তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ২০০ জন যুদ্ধাপরাধীর কোনো নির্দিষ্ট তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি। ইতিহাসের পাতায় ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীর একটি তালিকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যা ১৯৭৩ সালের ১৭ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে এটি বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বা রাজাকারদের তালিকা ছিল না; এটি ছিল সরাসরি গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে নেতৃত্বদানকারী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন সদস্যের তালিকা, যাদের বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার।

দালাল আইন ও অপপ্রচারের জবাব

স্বাধীনতার পর পাকিস্তানি দোসর ও রাজাকারদের বিচারের জন্য ১৯৭২ সালে ‘দালাল আইন’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই আইনের অধীনে প্রায় ৩৭ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়ে কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ধরে যুদ্ধাপরাধীদের আলাদা কোনো তালিকা তৈরি করা হয়নি।

পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর, যে সকল আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল না, তাদের প্রতি মহানুভবতা দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। এই প্রক্রিয়ায় ৩৭ হাজারের মধ্যে ২৬ হাজার ব্যক্তি মুক্তি পান। অবশিষ্ট ১১ হাজারের অধিক ব্যক্তি কারাগারে ছিলেন, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে বিচারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার দালাল আইন বাতিল করে দেয়, যার ফলে ওই ১১ হাজার ব্যক্তি মুক্তি পেয়ে যান।

উপসংহার

মারদিয়া মমতাজ টকশোতে যে “২০০ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকা”-র কথা উল্লেখ করেছেন, তার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। এটি মূলত ঐতিহাসিক সত্যকে আড়াল করার একটি অপপ্রয়াস মাত্র। ‘ফ্যাক্ট চেক জোন’ তাদের অনুসন্ধানে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইতিহাসে এই ধরনের কোনো তালিকা তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: ফ্যাক্ট চেক জোন