ঢাকা: সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত হচ্ছে না। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আজ ফলাফল প্রকাশের কথা থাকলেও, কারিগরি ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ না হওয়ায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
শিগগিরই নতুন তারিখ ঘোষণার আশ্বাস প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী ফলাফল স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ফলাফল চূড়ান্ত করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং খুব শিগগিরই ফলাফল প্রকাশের নতুন তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ভুল ফলাফল নিশ্চিত করতে ও তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ শতভাগ শেষ না হওয়ার কারণেই মূলত এই বিলম্বের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বৃত্তির পরিসংখ্যান ও বণ্টন পদ্ধতি এ বছর সারা দেশ থেকে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হবে। এবারের বৃত্তির নীতিমালায় সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট কোটা বা অনুপাত মেনে চলা হচ্ছে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। বাকি ২০ শতাংশ বৃত্তি পাবে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা।
বরাবরের মতোই ‘ট্যালেন্টপুল’ (মেধাবৃত্তি) এবং ‘সাধারণ গ্রেড’—এই দুটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হবে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট হারে সরকারের কাছ থেকে মাসিক আর্থিক সহায়তা লাভ করবে।
অংশগ্রহণকারী ও পরীক্ষার প্রেক্ষাপট চলতি বছরের (২০২৬ সালের) ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে (পার্বত্য তিন জেলা ব্যতীত) আনন্দঘন পরিবেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে পাহাড়ি অঞ্চলের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পৃথক সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।
শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় দেশজুড়ে মোট ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। বিপুলসংখ্যক এই পরীক্ষার্থীর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ৯০ হাজার।
ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা এই লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা দূর করতে কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।