ব্রিকলেন নিউজ, ঢাকাঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাস্তুচ্যুত ও দরিদ্র মানুষের সহায়তার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পে ব্যাপক ব্যয়ের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। জিআইজেড-এর (GIZ) অর্থায়নে ‘ইন্টিগ্রেট’ শীর্ষক প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মোট বাজেট ধরা হয়েছে ৬১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। তবে এর মধ্যে প্রকৃত অভাবীদের হাতে পৌঁছাবে মাত্র ১৩ শতাংশ অর্থ। বাকি ৮৭ শতাংশই ব্যয় হবে প্রশাসনিক ও পরামর্শক খাতে।

প্রকল্পের চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য:
-
অভাবীদের চেয়ে পরামর্শক বেশি: ৩ জেলার মাত্র ৩০০ জন দরিদ্র মানুষকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ এই ৩০০ জনের জন্য অনুদান বিতরণে ‘পরামর্শ’ দিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে ৪৭৩ জন দেশি-বিদেশি পরামর্শক!
-
বরাদ্দের বৈষম্য: ৩০০ জন বাস্তুহারা মানুষের জন্য অনুদান রাখা হয়েছে মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। বিপরীতে শুধু পরামর্শকদের পেছনেই ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
-
বিলাসিতা ও ভ্রমণ: সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণের জন্য ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের জন্য ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা খরচের প্রস্তাব করা হয়েছে।
-
অন্যান্য খরচ: ব্যবস্থাপনা চার্জ হিসেবে ১০ কোটি ৭ লাখ এবং অফিস ভাড়ার জন্য ৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের দাবি, এটি একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং দাতা সংস্থার (জিআইজেড) দেওয়া শর্ত অনুযায়ী এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনা কমিশন এই অস্বাভাবিক প্রশাসনিক ব্যয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং পিইসি সভায় ব্যয়ের খাতগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।