রংপুর: হিমাগারের (কোল্ড স্টোরেজ) সংরক্ষণ ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং তা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবিতে রংপুরে কাফনের কাপড় পরে গণ-অনশন করেছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। আজ বুধবার দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই অভিনব ও কঠোর প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
সিন্ডিকেটের অভিযোগ ও বর্ধিত ভাড়ার বোঝা অনশনে অংশ নেওয়া আলু চাষি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হিমাগার মালিকরা সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃষকদের জিম্মি করেছেন। গত দুই বছর ধরে হিমাগারে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। কিন্তু চলতি মৌসুমে তা একলাফে বাড়িয়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এই অতিরিক্ত ভাড়া চাপিয়ে দেওয়াকে কৃষকরা তাদের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
দাবি আদায়ে আলটিমেটাম গণ-অনশন থেকে জেলা প্রশাসন ও সরকারের কাছে অবিলম্বে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। বিক্ষুব্ধ চাষিরা আগামী ১০ তারিখের মধ্যে এই সংকট নিরসনে সরকারি হস্তক্ষেপের আলটিমেটাম দিয়েছেন।
তারা ঘোষণা দেন, ১১ তারিখের মধ্যে তাদের দাবি মানা না হলে চাষি ও ব্যবসায়ীরা নিজেরাই একটি কমিটি গঠন করবেন। এরপর সেই কমিটির মাধ্যমে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ করে হিমাগারগুলো থেকে নিজেদের আলু খালাস করে নেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তে যেতে বাধ্য হবেন তারা। এরপরেও সমস্যার সমাধান না হলে আগামী ১৫ তারিখ থেকে বৃহত্তর ও আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হলে দায় প্রশাসনের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে চাষিরা জেলা প্রশাসনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন। তারা স্পষ্টভাবে জানান, হিমাগার মালিকদের এই সিন্ডিকেটের কারণে সৃষ্ট সংকট যদি দ্রুত নিরসন করা না হয়, তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। চাষিরা বলেন, দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ফলে জেলার আইন-শৃঙ্খলার কোনো অবনতি ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব রংপুর জেলা প্রশাসনকেই নিতে হবে।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে আলু সংরক্ষণের ভরা মৌসুমে চাষি ও হিমাগার মালিকদের এই দ্বন্দ্ব স্থানীয় বাজারে আলুর দাম ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।