Brick Lane News

আইভরি কোস্টকে বিদায় করে ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে

আইভরি কোস্টকে বিদায় করে ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে

নরওয়ে ২-১ আইভরি কোস্ট
তথ্যটা হয়তো অনেকেরই অজানা। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে কেবল একটি দলের বিপক্ষে কখনো জিততে পারেনি ব্রাজিল। সেই দলের নাম নরওয়ে। বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচে এই নরওয়েরই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ২-১ গোলের জয়ে আইভরি কোস্টকে যে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিয়েছে নরওয়ে!

 

ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে প্রায় নিষ্প্রভ থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে জ্বলে উঠেছেন আর্লিং হালান্ড। ১-১ গোলের সমতা নিয়ে অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াতে যাওয়া ম্যাচের ৮৬ মিনিটে জয়সূচক গোল করেছেন হালান্ড।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম জয়ের খোঁজে ছিল দুই দল। তাতে সাফল্য পেলেন হালান্ড-ওডেগার্ডরা। অথচ ম্যাচের প্রথম আধাঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ ছিল আইভরি কোস্টের হাতেই। গোল করার সম্ভাবনাও তাদেরই বেশি ছিল।

কোনানের শট লেগেছিল সাইড নেটে। আর ছয় গজের বক্সে পেপের বাড়ানো বল কাজে লাগাতে পারেননি বনি।
উল্টো ৩৯ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আন্তোনিও নুসা। ওডেগার্ডের বাড়িয়ে দেওয়া বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ‘নরওয়েজীয় নেইমার’ খ্যাত নুসা। তার পর ড্রিবলিং করে ডান পায়ের বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে।

এরপর দুই মিনিটের মধ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করার দুটি সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। বক্সে আর্লিং হাল্যান্ডের শট ঠেকিয়ে দেন আগবাদু। কর্নার থেকে সরলথের হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

বিরতির পর ম্যাচের ৫৬ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল আইভরি কোস্ট। বক্সের ভেতরে পেপের বাঁ পায়ের সামনে বল চলে এসেছিল। প্রথম স্পর্শেই শট নেন তিনি। বলটি নিলান্ডকে ফাঁকি দিয়ে কাছের পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ানোর পথে ছিল। তবে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে পা দিয়ে দুর্দান্ত এক সেভ করেন নরওয়ের গোলকিপার।

৬০ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠে নামেন আমাদ দিয়ালো। পরে এই ‘সুপার সাবের’ গোলেই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলেছে। ৭৪ মিনিটে ম্যানচেস্টার উইনাইটেডের এই ফরোয়ার্ডের চোখধাঁধানো এক গোলে ম্যাচে ফেরে আইভরি কোস্ট।

পেপের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে এগিয়ে যান দিয়ালো। এরপর মোলার উলফে ও বের্গেকে কাটিয়ে এক দৌড়ে বক্সে ঢুকে দর্শনীয় এক শট নেন তিনি।

১-১ স্কোর লাইনে ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তখনই নাটকীয় মোড় নেয় ৮৬ মিনিটে। যার নায়ক আর্লিং হালান্ড। অস্কার ববের দারুণ এক থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন বার্গ। এরপর নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়ে দেন হালান্ডের সামনে। খুব কাছ থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার।

নরওয়ে জার্সিতে এটি হালান্ডের ৫৩ ম্যাচে ৬০তম গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার চেয়ে দ্রুততম সময়ে ৬০ গোল আর কেউ করতে পারেননি।

আগামী রবিবার রাতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-নরওয়ে।