অনলাইন ডেস্ক –
যুক্তরাজ্যে ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির এই বয়সী নারীদের প্রায় দুই–তৃতীয়াংশই জীবনের মধ্যগামী পর্যায়ে এসে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। মেনোপজ, সম্পর্ক ভাঙন, শারীরিক পরিবর্তন, সন্তানদের ঘর ছাড়ার বাস্তবতা এবং আর্থিক চাপ—সব মিলিয়ে তাঁদের মানসিক সুস্থতা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর কাউন্সেলিং অ্যান্ড সাইকোথেরাপি (বিএসিপি)–এর উদ্যোগে পরিচালিত এই জরিপে ব্রিটেনজুড়ে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী ২ হাজার নারীর মতামত নেওয়া হয়। জরিপে উঠে এসেছে, মেনোপজ–সংক্রান্ত জটিলতা, স্মৃতিভ্রংশের মতো অনুভূতি বা ‘ব্রেন ফগ’, বাবা–মায়ের মৃত্যু, সন্তানদের আলাদা হয়ে যাওয়া এবং দৈনন্দিন আর্থিক উদ্বেগ নারীদের মধ্যে উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা ও জীবন সম্পর্কে আগ্রহ হারানোর মতো মানসিক সংকট তৈরি করছে।
বিএসিপির পরিচালক (পেশাগত মান, নীতিমালা ও গবেষণা) ডা. লিসা মরিসন বলেন, “এই বয়সে অনেক নারীর জীবনে একসঙ্গে নানা বড় পরিবর্তন আসে—মেনোপজ, শারীরিক রূপান্তর, সম্পর্ক ভাঙন, পরিবারের দেখভাল কিংবা সন্তানদের ঘর ছাড়ার বাস্তবতা। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—প্রায় ৯ জনের মধ্যে ৯ জন নারী মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও তা গোপন রাখছেন।”
জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন, ৪৩ শতাংশের ওজন বেড়েছে বা কমেছে, ৩৮ শতাংশ সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলছেন এবং ২৮ শতাংশ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে ৫৮ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, আগে যেসব বিষয় তাঁদের তেমন প্রভাবিত করত না, এখন সেগুলোতেই তাঁরা অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
এই বাস্তবতায় বিএসিপি আজ একটি সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে। সংগঠনটি বলছে, ‘স্টিফ আপার লিপ’ সংস্কৃতি নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং প্রয়োজনে থেরাপি নেওয়াকে দুর্বলতা নয়, বরং সহায়তার একটি কার্যকর উপায় হিসেবে দেখা উচিত।
৫০ বছর পেরোনোর পর মানসিক সুস্থতায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে এমন বিষয়গুলোর মধ্যে ‘ব্রেন ফগ’ ছিল শীর্ষে (৩৮ শতাংশ)। এরপর রয়েছে মেনোপজের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চাপ (৩৪ শতাংশ)।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো কথা বলা ও সহায়তা নেওয়া গেলে এই মানসিক সংকট অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান



