Brick Lane News

মাদারীপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে যুবক আটক, গাছের সাথে বেঁধে মারধরের পর মৃত্যু

মাদারীপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে যুবক আটক, গাছের সাথে বেঁধে মারধরের পর মৃত্যু

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে আটক হওয়ার পর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। ঘটনাটি ঘিরে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সেনা সদস্যদের নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিহত রাসেল কাজী (২৯) কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের উত্তর আন্ডারচর এলাকার আলম কাজীর ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও এক সন্তান গ্রামের বাড়িতে থাকেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার ভোরে বরিশালের মুলাদী সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা যৌথ অভিযানের নামে রাসেল কাজীকে বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যান। এরপর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে নিহত রাসেলের বাড়ির সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, মুলাদী সেনা ক্যাম্পে নেওয়ার পর নির্যাতনের ফলে রাসেল কাজীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন।

নিহতের বড় ভাই হাশেম কাজী অভিযোগ করে বলেন, অভিযানের সময় সেনা সদস্যরা রাসেলকে গাছে বেঁধে মারধর করেন এবং বাড়ি থেকে মাঠে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালান। পরে মুলাদী সেনা ক্যাম্পে গেলে তারা ঘটনা অস্বীকার করে। রাতে কালকিনি সেনা ক্যাম্প থেকে ফোন করে জানানো হয়, রাসেলের লাশ ক্যাম্পে রয়েছে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিতে চাপ দেওয়া হয় এবং থানার মাধ্যমে এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও আসে, যা পরিবার প্রত্যাখ্যান করেছে।

এ বিষয়ে মুলাদী সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বরত অধিনায়ক মেজর তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। তবে পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে কালকিনি সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আশফানুল হক বলেন, উত্তর আন্ডারচর এলাকায় পরিচালিত অভিযানটি মুলাদী সেনা ক্যাম্পের ছিল। লাশটি তাঁদের ক্যাম্পে আনা হয়েছিল পার্শ্ববর্তী এলাকা হওয়ায়। পরিবারের হাতে লাশ হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিবার ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় লাশটি পুনরায় মুলাদী ক্যাম্প ও পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে কালকিনি সেনা ক্যাম্পের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরাফাত জাহান চৌধুরী জানান, লাশের সুরতহাল শেষে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনের বিস্তারিত বা লাশ উদ্ধারের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

Related Posts

Social Media

সর্বশেষ খবর