Brick Lane News

তারেক রহমানের নিরাপত্তায় এরা কারা?

তারেক রহমানের নিরাপত্তায় এরা কারা?

IMG 8923 তারেক রহমানের নিরাপত্তায় এরা কারা?
আমিনুল হক পলাশ – 
তারেক রহমানের নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব পালন করছে সিএসএফ (চেয়ারপার্সন সিকিউরিটি ফোর্স) নামধারী একটি বেসরকারি সিকিউরিটি টিম। উনার বাসভবন ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার দায়িত্বেও আছে তারা। রীতিমতো সশস্ত্র অবস্থায় ডিউটি করছে সিএসএফের সদস্যরা!
এই সিএসএফ কোন পেশাদার সিকিউরিটি ফোর্স না। খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার জন্য এই বাহিনী গঠন করা হয়েছিলো। কিন্তু কথা হচ্ছে তারেক রহমান তো এখন সরকার প্রধানের চেয়ারে আছেন। আইন অনুযায়ী তার নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব পালনের কথা এসএসএফ এর। এসএসএফ এর সদস্যদের উনার চারপাশে দেখা গেলেও তারেক রহমান মূলত ভরসা করছেন সিএসএফের উপর। অতএব ছড়ি ঘুরাচ্ছে তারাই।
বলতে পারেন, এতে সমস্যা কোথায়? নিরাপত্তা পেলেই তো হলো। বিষয়টা এতো সরলরৈখিক না। এর সাথে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতার প্রশ্ন জড়িত। চলেন বুঝিয়ে বলি।
প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিভিআইপি। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। নিরাপত্তা প্রটোকল “রেডবুক” অনুযায়ী তাদের এই নিরাপত্তা দেয়া হয়। আইন অনুযায়ী এই দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিশেষায়িত বাহিনী এসএসএফ এর। ভিভিআইপিদের দৈহিক নিরাপত্তার জন্য ইনার কর্ডনে মূলত তারাই থাকে। তাদেরকে সহায়তা করার জন্য এরপরের লেয়ারে থাকে পিজিআর বা প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সদস্যরা। তারপর থাকে এপিবিএন বা দাঙ্গা পুলিশের সদস্যরা। আর সবার আউটার লেয়ারের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্বরত এসএসএফ সদস্যদের নিকট সার্বক্ষনিক সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি শেয়ার করেন।
ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এসএসএফ সদস্যরা সার্বক্ষনিক অস্ত্র বহন করে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সেটি ব্যবহার করে। আইন তাদের এই অনুমতি দিয়েছে। একইসাথে তারা পুলিশের একজন ওসির সমান আইনী ক্ষমতা ভোগ করে অর্থাৎ নিরাপত্তার স্বার্থে যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ, আটক ও অপসারণ করতে পারেন। এসএসএফ আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের ইন্ডেমনটি দেয়া আছে, অর্থাৎ দায়িত্ব পালনকালীন কোন কাজের জন্য তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া যাবে না।
প্রশ্ন হচ্ছে, কোন আইন বলে বেসরকারি সিএসএফের সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় একজন ভিভিআইপির ইনার কর্ডনে অবস্থান করছে? এসএসএফই সেটা কিভাবে এলাউ করছে? কোন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে সিএসএফের রোল কি হবে? তারা কি অস্ত্রের ব্যবহার করবে কিংবা বলপ্রয়োগ করবে? সেটা কোন আইনী কাঠামোতে পড়বে? সিএসএফের সদস্যদের দ্বারাই যদি নিরাপত্তা ঘাটতি তৈরি হয় সেটা ওভারকাম করার উপায় কি? নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে গোয়েন্দা তথ্যের সরবরাহ। তাহলে রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা গুলো কি বেসরকারি সিএসএফের সদস্যদের নিকট সেই তথ্য সরবরাহ করছে? সেটাই বা কোন আইন বলে হচ্ছে?
দ্বৈত কাঠামোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা উলটো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে এসএসএফের সদস্যদের সাথে সিএসএফএফের সদস্যদের দ্বান্দিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কথা হচ্ছে, তারেক রহমান সরকারি বাহিনী বাদ দিয়ে কেন বেসরকারি একটি অপেশাদার বাহিনীর উপর ভরসা করতে হচ্ছে? এসএসএফকে কি তিনি যোগ্য মনে করছেন না? নাকি বিশ্বাস করতে পারছেন না? এই অবিশ্বাসের ভিত্তি কি?
দ্বৈত শাসন তারেক রহমানের সিগনেচার স্টাইল। ২০০১-০৬ মেয়াদে তিনি সরকারের প্যারালালি “হাওয়া ভবন” নামের বিকল্প সরকার গড়ে তুলেছিলেন। এবার দৃশ্যমান হাওয়া ভবন তৈরি না হলেও তার সাথে লন্ডনফেরত সঙ্গী সাথীরা ইতোমধ্যে সরকারের ভিতরে আরেকটি সরকার তৈরি করেছে। তাদের ইশারাতেই সব হচ্ছে। সেটা না হয় মানা গেল। কিন্তু সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন এবং দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জামাতকে বিরোধী দলে বসিয়েও কেন তারেক রহমান নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না? রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও আইন ভেঙ্গে কেন তাকে একটি বেসরকারি ফোর্সের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পরিষ্কার হওয়া জরুরি। দেশের প্রকৃত অবস্থা বুঝার জন্যই জরুরী। যে দেশের সরকার প্রধানের দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর উপর ভরসা রাখতে পারেন না সেই দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো যে কতটা ভঙ্গুর এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা নাজুক, সেটা একটু ভেবে দেখুন। এবার আশেপাশের পরিস্থিতি দিকে নজর বুলান, অনেক কিছু বুঝতে পারবেন। বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই কাফি!
লেখক – সাবেক এনএসআই কর্মকর্তা